বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
57,980 57,883 28

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
401,586 318,123 5,838

কোভিড-১৯ এর রাজনৈতিক চরিত্র

উৎপল দত্ত | ২৮ মে ২০২০ | ৭:২৩ অপরাহ্ণ
কোভিড-১৯ এর রাজনৈতিক চরিত্র সংগৃহীত ছবি

আগামী দিনেও আমাদের কোভিড -১৯ এর সাথে বাস করতে হবে! কথাটি বাজারে উঠেছে। এর পেছনের কথাটি কী তাহলে?
কল্যণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, নীতি, আদর্শ ও দর্শন ছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলা সম্ভব নয়। পুঁজিবাদী বিশ্ব ‘মানুষ’ বোঝে না। বাজার বোঝে। পুঁজিবাদ এতো অন্ধ যে, যদি মানুষই না থাকে, তাহলে বাজার চলবে কী করে তাও বোঝে না। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অন্তত মানুষের প্রাণের মূল্য আছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে তারা বাজারে ছেড়ে দেয়নি। যদিও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিশ্বে এখন হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র, তবু দৃশ্যত কোভিড-১৯ মোকাবেলায় তারাই সাফল্য অর্জন করেছে।

পোলিও, স্মল পক্স নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক সময় পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি একমত হতে পেরেছিল। সমগ্র বিশ্বকে স্মল পক্স ও পোলিও-র অভিশাপ থেকে মুক্ত করা তাই সম্ভব হয়েছিল। কোভিড- ১৯ এর বিরুদ্ধে মানবজাতিকে রক্ষা করতে হলে দুই মতাদর্শের রাষ্ট্র ও জাতিকে একই মঞ্চে দাঁড়াতে হবে। তাছাড়া সম্ভব নয়।

আশঙ্কার বিষয়টি হলো, পুঁজিবাদ ও বাজার অর্থনীতির শেকড় এখন অনেক গভীরে প্রোথিত। সাধারণ মানুষও পুঁজিবাদী সংস্কৃতির শেকড়ে বন্দী ও অভ্যস্ত হয়ে গেছে। মানবতার স্পর্শ তাই কোথাও নেই। হাহাকার করতে হয়, তবু তা হাতড়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।

পঞ্চাশ বা ষাটের দশকেও যা সম্ভব ছিলো, আজ তা হবে কিনা, সংশয় হয়। গত শতকের নব্বই এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পড়লেও বিশ্ব আজও দুই শিবিরে বিভক্ত। সমাজতন্ত্রের কথাটি অনুক্ত রেখেও বলা যায়, পুঁজিবাদ ও কল্যণকামী রাষ্ট্র- এই দুই শিবিরে বিভক্ত। কোভিড-১৯ এর প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যকে একমাত্র ও প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হলে বৈরী পৃথিবী বৈরী-ই থেকে যাবে। তাকে মানুষই বৈরী করেছে।

পুঁজিবাদী বিশ্ব একটি ছেলে-ভোলানো ও বিভ্রান্তিকর চিন্তাকে উসকে দিচ্ছে যা বিজ্ঞান সম্মত নয়। তা হলো, আগামী দিনেও আমাদেরকে কোভিড-১৯ এর সাথেই বাস করতে হবে। একথা তাদের বাজার টিকিয়ে রাখার জন্য। উৎপাদন, স্বাস্থ্য বা খাদ্যের কথা কিন্তু বলা হচ্ছে না। যার উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত তাদের কথাও বলা হচ্ছে না।

‘সোনার ফসল ফলায় যে তার দুই বেলা জোটে না আহার’-গানটি খুব মনে পড়ে যাচ্ছে। তথাকথিত উন্নত বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। কারণ তারা কৃষিকাজে নেই। ওই কাজটি উন্নয়নশীল দেশের। উন্নত বিশ্বের কাজ কত্তো বড়। মিসাইল, পরমাণু অস্ত্র, প্রযুক্তির সাফল্য গোনা, মঙ্গল গ্রহে পানি বা মধু আছে কিনা।

যে পরিমাণ অর্থ সমারাস্ত্রে ঢেলে দেয়া হয়েছে তার কতো ভাগ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ব্যয় করা হয়েছে! আজ আর ভবিকে ভোলানো গল্প বলে কাজ হচ্ছে না।

মানুষ না থাকলে বাজার কোথায় থাকবে, তা পুঁজির খাতায় লেখাজোকা নেই। কোভিড-১৯ আগের মহামারির মতো নয়। সংক্রমণ ও সংহারের ক্ষমতা নিয়ে তার চরিত্র একটু হলেও ভীতিকর এবং বিভ্রান্তিকরও। সে এমনিতেই চরিত্র পাল্টায়। উপরন্তু তাকে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চরিত্র দিয়ে।

বাজারমুখী অর্থব্যবস্থার ধারনা নিয়ে কোভিড-১৯ কে পরাজিত করা সম্ভব, এরকম কথা অন্তত চিকিৎসা বিজ্ঞান বা গবেষণার সাথে যায় না। একজন সংক্রমিত ব্যক্তিও যদি থাকেন তবুও সমাজ বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। দৃশ্যমান পরিস্থিতি ও গবেষণা সেরকমই বলে। এই প্রজন্মের অনেকেই করুণভাবে ঝরে পড়ছে। আগামী প্রজন্ম তো টিকে থাকবে।

প্রাণ-প্রকৃতি বিশ্বজুড়ে। তা একটি রাষ্ট্র-কাঠামোয় সীমাবদ্ধ নয়। কোভিডও ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। লিস্ট-তালিকা করে বা বেছে বেছে সে সংক্রমণ অব্যাহত রাখেনি। কোডিভ-১৯ এর কোন রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক চরিত্র নেই। আমরা তার ওপর ওইরকম চরিত্র আরোপ করছি।

কোভিড-১৯ কে পরাহত করে মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত করতে হলে প্রথমে মতাদর্শ বা দর্শনের ক্ষেত্রে একমত হতে হবে। সমগ্র বিশ্বকেই এক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তাছাড়া সম্ভব নয়।

যদি তা না হয়, তবে তা হবে বিধাতার অভিশাপ। আগামী প্রজন্ম পূর্ব প্রজন্মকে ক্ষমা করবে না। তবুও একটি পরিবর্তনের রেখা পড়া যায়। যারা ঝরে পড়বে না, ‘সারভাইভ’ করবে তারা নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে জীবন শুরু করবে। আর তা হলো, আগামী বিশ্বে বেঁচে থাকতে হলে মানুষের পারষ্পরিক কল্যাণ কামনার কোন বিকল্প নেই। যারা কল্যণকামী নয় তাদের সাথে লড়াইয়ের জন্য বেঁচে-থাকা মানুষ প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

অস্তিত্ব আগে। বাজার অর্থনীতি বা বাজার প্রসূত সংস্কৃতি নয়। এর সাথে আগামীকালের মানুষ হয়তো আপোস করবে না।

-উৎপল দত্ত, অভিবাসী কবি

Facebook Comments

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১