রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। গত বছরের ২১ জুলাইয়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবিতে ৮ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি–এর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, পাইলটের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য—এই তিনটি কারণেই প্রাণহানির মাত্রা বেড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
১. তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি ও স্কুলের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান (অব.)–এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে অর্থ উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনে উল্লিখিত রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে একটি স্থায়ী মেমোরিয়াল নির্মাণ।
৪. প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০২১–২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে দুর্নীতি না হলে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। পরিবারের দাবি, এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণেই পাইলটসহ ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, দুর্ঘটনার দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানটি আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে ও দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় প্রাণ হারান। তাদের ভাষ্য, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত বেশি প্রাণহানির নজির বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
পরিবারগুলো আরও জানায়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের এক অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা তারা ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইভাবে ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত সম্ভাব্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও তারা নাকচ করে দিয়েছেন—ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন।
তারা জানান, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) এবং উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি, নিহতদের আত্মার শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?