clock ,

গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন অধ্যাদেশের খসড়া তড়িঘড়ি প্রকাশকে অনভিপ্রেত অযৌক্তিক বলে মনে করছে সংগঠনটি। গত ১ ফেব্রুয়ারি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগের কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন গত বছরের মার্চে জমা পড়লেও দীর্ঘ ১০ মাসে তার কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করে গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে, যেখানে মতামত দেওয়ার জন্য সময় রাখা হয় মাত্র তিন দিন। এর একদিন আগে সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য আলাদা একটি অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে।

সম্পাদক পরিষদ জানায়, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সম্প্রচার কমিশন সংক্রান্ত দুটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং সময় নির্বাচন নিয়ে তাদের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। নির্বাচন যখন একেবারেই সন্নিকটে, তখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মান এবং সম্প্রচার ব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া যথাযথ আলোচনা পর্যালোচনা ছাড়া প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খসড়া অধ্যাদেশগুলোর কাঠামো বিধান পর্যালোচনা করলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার চেয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কাই বেশি স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি সীমিত সময়ের মধ্যে মতামত আহ্বান করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়।

সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন নির্বাচিত সংসদ গঠনের পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনসাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করা উচিত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নে তড়িঘড়ি নয়, বরং স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াই দেশ গণতন্ত্রের স্বার্থে সর্বোত্তম বলে উল্লেখ করা হয়।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য