যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ **গাজা উপত্যকা**য় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ৮ জানুয়ারি দিনের বিভিন্ন সময়ে চালানো এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে Al Jazeera।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপিত একটি তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই অন্তত চারজন নিহত হন। এলাকাটি আগে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষিত থাকলেও সেখানে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হন। একই দিনে মধ্য গাজার বুরেইজ ও নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরেও বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে; এসব হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
পৃথক এক ঘটনায় উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলি গুলিতে হামসা হুসু নামে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু নিহত হয়। শিশুটির চাচা খামিস হুসু জানান, গভীর রাতে পরিবারের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গিয়ে তিনি দেখেন—হামসা মেঝেতে পড়ে আছে, নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইল তা নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবারের হামলাগুলো সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে Popular Front for the Liberation of Palestine (পিএফএলপি)। সংগঠনটি বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর হামলাকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এসব হামলা গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার কৌশলের প্রতিফলন।
গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৪২৫ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০৬ জন আহত হয়েছেন।
টানা হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গাজাজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা দিলেও পর্যাপ্ত আশ্রয় ও ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ওপর চলমান শীতকালীন ঝড় পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?