clock ,

বিদেশে বসে ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর নীলনকশা, বাড়ছে উদ্বেগ

বিদেশে বসে ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর নীলনকশা, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে টার্গেট করা হত্যাকাণ্ড বাটার্গেটেড কিলিংকমার কোনো লক্ষণ নেই; বরং দিন দিন তা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রকাশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি (বুধবাররাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ড সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগেও একাধিক রাজনৈতিক অপরাধসংশ্লিষ্ট হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাই দূর থেকে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে, আর তাদের দেশীয় সাঙ্গপাঙ্গরা বাস্তবায়ন করছেমিশন

পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তারা বিদেশে বসেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি খুনের পরিকল্পনা করছে। গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি আবার অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, সুইডেন আসলামের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি দখলদারিতে জড়িয়ে পড়ে। ফার্মগেট এলাকার একটি গাড়ির শোরুম থেকে চারটি দামি গাড়ি নিয়ে যাওয়া, কারওয়ান বাজার খামারবাড়ি এলাকায় নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি খামারবাড়ির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, কেউ চাঁদা বা কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নেমে আসে সন্ত্রাসীদের খড়গ। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডেও সুইডেন আসলাম তার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। শুধু আসলামই নন, বিদেশে অবস্থানরত আরও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, কিলার আব্বাস গ্রুপ, সুব্রত বাইন মোল্লা মাসুদের সহযোগীরা দেশজুড়ে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ দুবাই, কেউ ভারত, কেউবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থান করে দেশীয় অপরাধচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) রেজাউল করিম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিষয়ে পুলিশ ইউনিটগুলোকে সতর্ক করে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকেই আত্মগোপনে থেকে দেশে অপরাধ পরিচালনা করছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

অপরাধের মাত্রা বাড়ায় সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্বেগও বেড়েছে। গত ৮ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরে এক বিশেষ বৈঠকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড টার্গেটেড কিলিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দেশে থাকা তাদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধীরা রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। জামিনে বের হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ঘাপটি মেরে থেকে বিদেশে বসেই কলকাঠি নাড়ছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালীর সহায়তার তথ্যও পুলিশের হাতে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আন্ডারওয়ার্ল্ডের তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণে পুলিশ সদর দপ্তর সব ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারপোল সদর দপ্তরে আবারও পলাতক সন্ত্রাসীদের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধ জগতে যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তাদের অনেকেই এখনো সক্রিয় শুধু অবস্থান বদলেছে। একসময় যারা সরাসরি মাঠে ছিল, তারা এখন বিদেশে বসে খুন, চাঁদাবাজি দখলদারির ছক আঁকছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে না পারলে টার্গেটেড কিলিং আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য