রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা জাতির জন্য এক গভীর বেদনা ও অপূরণীয় ক্ষতির প্রতীক। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের শোকাবেগ তা-ই প্রমাণ করে।
আমরাও বাংলার কন্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই। শিশু ও কিশোরদের পুড়ে যাওয়া শরীর, আহতদের আর্তনাদ এবং অভিভাবকদের হতবিহ্বলতা আমাদের সহনক্ষমতার সীমা ছুঁয়ে গেছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ যা ভবিষ্যৎ জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক, এদের অধিকাংশই শিশু।
প্রশ্ন উঠছে কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল? এটা কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, প্রশিক্ষণের ঘাটতি, না কি অন্য কিছু? গত পাঁচ বছরে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি এই ঘটনায় তা আরও পরিষ্কার। প্রশিক্ষণ বিমানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, পরীক্ষা ও পূর্বপ্রস্তুতি যথাযথ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই ট্র্যাজেডির দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান, নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। দগ্ধ শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন ভয়াবহ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য তদন্ত কমিটির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয়স্থল, বিপদের কেন্দ্র নয়।
আমরা শোকাহত তবে একই সঙ্গে আশা করি, এই শোক যেন কার্যকর সচেতনতায় রূপ নেয়।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?