গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দিয়ে আবারও উত্তেজনা বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। প্রয়োজনে সেনা নামানোর কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে Denmark। ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডে বিদেশি সেনা দেখা গেলে আগে গুলি, পরে কথা।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীকে ১৯৫২ সালের ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এই আইনে বিদেশি সেনা অনুপ্রবেশ করলে গুলি চালাতে আলাদা কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। কর্তৃপক্ষের দাবি, আইনটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যার জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। তবে কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বহুদিন ধরেই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের নজরে। ২০১৯ সালেই গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তখন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে মার্কিন অভিযানের পর আবারও গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ সামনে আনেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব Karoline Leavitt বলেন, “আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষদের ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন সামরিক পদক্ষেপও আলোচনায় আছে।”
এদিকে আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প সামরিক পথ নয়, দ্বীপটি কিনতে আগ্রহী।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী Mette Frederiksen আবারও পরিষ্কার করে জানিয়েছেন গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। তার সতর্কবার্তা, ট্রাম্প যদি সামরিক আগ্রাসনে যান, তবে তা NATO জোটের ভবিষ্যৎকেই বিপন্ন করবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব সম্মান করা উচিত।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?