সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ও সিনিয়র মিনিস্টারের শোক
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অঙ। একই সঙ্গে শোক জানিয়েছেন সিনিয়র মিনিস্টার লি সিয়েন লুঙ। ২ জানুয়ারি পৃথক শোকবার্তায় তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেগম জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। পরদিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপসহ বিশ্বের বহু দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান শোক প্রকাশ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ও সিনিয়র মিনিস্টার শোকবার্তা পাঠান।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–কে লেখা এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অঙ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। সংসদীয় গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নে তাকে একজন অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে লরেন্স অঙ শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রতি তার সেবা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কে পাঠানো চিঠিতে সিনিয়র মিনিস্টার লি সিয়েন লুঙ ২০০৫ সালে বেগম জিয়ার সিঙ্গাপুর সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশি মানুষের সহনশীলতা ও সাহসের প্রতীক। স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে এসে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া তার দৃঢ় মনোবলেরই প্রমাণ।
লি সিয়েন লুঙ আরও বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিকাশ ঘটেছে এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার নেতৃত্বেই সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া তিন দফায় দেশ পরিচালনা করেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তিনি কারাবন্দি হন। দীর্ঘ অসুস্থতা ও কারাবাসের পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে সেই সংগ্রামী পথচলার অবসান ঘটে গত ৩০ ডিসেম্বর।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?