মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

১২ আশ্বিন, ১৪২৯

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

এই বেহেশ্ত সেই ‘বেহেশ্ত’ নয়

দীপক চৌধুরী | ১৪ আগস্ট ২০২২ | ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
এই বেহেশ্ত সেই ‘বেহেশ্ত’ নয়

দেশের যেকোন দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় জনগণের পাশেই থাকেন এটা পরীক্ষিত। কোভিড, বন্যায় এ দেশের মানুষ দেখেছে। একথা অনেকেই স্বীকার করেন। কিন্তু আবার এটা কেউ কেউ স্বীকারই করতে চান না যে, বৈশ্বিক সংকটে গোটা দুনিয়া যেখানে আক্রান্ত সেখানে আমরা বাদ থাকি কীভাবে? সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মন্তব্য করেছেন, বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছেন। আরেকজন মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে আছে। আসলে ‘শান্তি বা বেহেশত’ এগেুলো হচ্ছে কথার কথা। এখানে ‘বেহেশত’ বলতে সেই বেহেশত নয়, ‘সুখ’ বুঝিয়েছেন মন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে একটি পক্ষ থেকে এমন প্যানিক (আতঙ্ক) ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বৈশ্বিককমন্দায় অন্যদেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি।” এর আগে সম্ভবত ১০ আগস্টের দিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, “গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে। আমি মনে করি না আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি।” এসব কথা কি মিথ্যা? কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্যে একটি শ্রেণি অস্থির হয়ে উঠেছে। বাস্তবতা হচ্ছে দুনিয়ার দেশেই সংকটজনক পরিস্থিতি চলছে। আমাদের দেশে তেমন খারাপ অবস্থা হয়নি। একজন উচ্চশিক্ষিত ফেবুবন্ধু সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে জানালো, এখন ওখানে প্রত্যেকটি পণ্যের মূল্য দুইগুণ, আড়াইগুণ ও তিনগুণ বেড়েছে। একযুগের বেশি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা বন্ধুটি জানালো, ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থাতো খুবই ভয়াবহ। কিন্তু আমরা বাস্তবতা মানি না, মানতেও চাই না। কিছু লোকের চরিত্র এটি।

বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম, কয়েকদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালী চুয়ার্ডকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অভিযোগ করেন। পরে দেখা গেল মন্ত্রীর কথার যুক্তি আছে।

গত জুন মাসের দিকে পত্রিকায় সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা জমা আছে মর্মে খবর বেরিয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতেই চায়নি।

সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে খোঁজখবর নিলেন ড. মোমেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থসচিবের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলেন যে, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের একথা অসত্য। এরপরই সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের জবাব দিলেন মন্ত্রী। কিন্তু একটি মহল এখানেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ছোট করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আসলে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে তারা ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ দেখতে পায়। আন্তর্জাতিক মানের মেধাবী এই কূটনীতিবিদকে তারা সমালোচনার মাধ্যমে অপশক্তির হাতকেই শক্তিশালী করতে চায় কিনা এটাও দেখা দরকার।

বিএনপি-জামায়াত বা সমমনা ইসলামী কিছু দল এখন কথায় কথায় গণতন্ত্র আর ‘সুশাসনের দরকার’ বলে চিৎকার করছে। তারা কথায় কথায় এ সরকারকে ফ্যাসিবাদী সরকার বলে। অথচ তাদের আমলেই অপশাসনের ছড়াছড়ি ছিল। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের যখন হত্যা করা হলো তখন ঘাতকদের কী ধরনের চরিত্র ছিল এটা দেশবাসী জানে। ফ্যাসিবাদী কারা? ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী, কামরুজ্জামানকে হত্যাকারীরা বিএনপির পতাকাতলে থাকে কীভাবে? বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে চাকরি দেওয়া, রাজনীতিতে আনা, ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা করা ছিল বিএনপি-জামায়াতের কাজ। স্বৈরাচার এরশাদ কী কোনোদিকে কম ছিলেন? বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দিয়ে ‘ফ্রিডম পার্টি’ বানিয়ে দেশে রাজনৈতিক দল গঠন করিয়েছিলেন। সুতরাং কারা ফ্যাসিবাদী ও খুনির দল এদের সম্পর্কে মানুষ ভালো করেই জানে।

যে কথা বলতে চেয়েছিলাম শুধু চাল নয়, ব্যাপকভাবে বেড়েছে ভোজ্যতেল, ডাল, আটা, চিনি, মাংসসহ সব ধরনের পণ্য। দোহাই দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এক লিটার জ¦ালানি তেলের দাম বেড়েছে চৌত্রিশ টাকা। কিন্তু সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে কুড়ি টাকা করে। যেখানে হিসেব অনুযায়ী পরিবহন খরচ বাড়তে পারে কেজিতে কয়েক আনা, আট আনা বা দশ আনা। একদুই কেজি করে ট্রাকে সব্জি আনা হয় নাকি ঢাকাতে? কিন্তু এ অবস্থা কেন?

‘বিদেশিদের চাপে আছে সরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনীতি কীভাবে যেনো পচে গেছে। একটি দলের মহাসচিব এমন পুরান কথা বলেন কীভাবে? একথা তো তারা ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ সালেও বলেছিলেন! কোথায় ‘গণেশ উল্টালো’। তারা বক্তৃতা দিয়ে বলেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম যেতে পাসপোর্ট লাগবে। এসব কথা বলে বিএনপি-জামায়াত কোনো লাভ করতে পেরেছে? আসলে পায়ের তলায় বিএনপির মাটি আছে কি? ১৫ আগস্ট যে খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালন করেন সেই দলের কাছে জাতি কী আশা করতে পারে? অথচ বিশে^র নেতারা বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রেষ্ঠ নেতা বলে মন্তব্য করেছেন। ফিদেল ক্যাস্ত্রো মন্তব্য করেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধু দেখেছি।

কয়েক বছর আগে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য লেখার জন্য রক্ষিত বইয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ একটি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল এবং সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের মত ঘটনা মানব সভ্যতার ইতিহাসে খুবই বিরল। মহান একজন মানবতাবাদী হিসেবে তিনি সকল মানুষের জন্য সমতা, সুযোগ ও মর্যাদার মহান প্রবক্তা।’

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কেবল সপরিবারে হত্যাই করা হয়নি বরং এই হত্যাকাণ্ডের যেন বিচার না হয় সেজন্য বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিলেন খুনি মোশতাক এবং জিয়াউর রহমান। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন জিয়া কিন্তু বাতিলের দাবি জানালে একপর্যায়ে খালেদা জিয়ারা ইনডেমনিটি বাতিল তো করেনই নি বরং উল্টো ঘাতক-খুনিদের কাছে টেনে নেন।

আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার জন্য ২০০৪-এ গ্রেনেড হামলার ঘৃণ্য ঘটনা হয়েছিল। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় আর ২০০৪-এর ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমি প্রশ্ন করতে চাই, তখন সুশাসন, সুবিচার আর মানবতা কোথায় ছিল?

দেশের জনগণ জানেন, এখন যারা সভা- সেমিনারে বক্তৃতায় গণতন্ত্রের জন্য চোখের জল ফেলে ভাসিয়ে দিচ্ছেন, মায়াকান্না করছেন তারা কারা? তারা গণতন্ত্র, মানবতা, সুশাসন, সুবিচারের ছিটেফোঁটাও দিতে পারেননি। গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিল দীর্ঘদিন। দলের জন্মদাতা জিয়াউর রহমানের কুকীর্তি ইতিহাসে লেখা রয়েছে। শত-সহস্র মুক্তযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। খুন-গুম, সর্বহারাদের তাণ্ডব টিকিয়ে রাখা, চুরি আর লুটপাট এসবই ছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে নিত্যদিনের ঘটনা। মির্জা ফখরুল কয়েকমাস আগে বলেছেন খালেদা জিয়া নাকি দেশের ‘প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’। যদিও তিনি যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানান। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়া দেশবিরোধী সংগঠন জামায়াত এবং দলের নেতাদের মন্ত্রী বানান, উপদেষ্টা করেন । খালেদা জিয়ার আশীর্বাদে জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদেরকে জাতীয় সংসদে বসিয়ে পবিত্র সংসদের অবমাননা করেছিলেন। এদেশের জনগণ ভুলে যায়নি।

চমৎকার একটি কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো দুষ্কৃতকারীকে রাজপথ ইজারা দেই নাই, রাজপথ দখল করবে, মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা মারবে সেটা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হতে দেবে না।”

বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ এর রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা মহামারির মধ্যেও দেশে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে দারিদ্র্যের হার এক শতাংশ কমেছে এবং অতি দারিদ্র্যের হার কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়েও ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে।” ড. হাছান মাহমুদের মতে, “তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বক্তব্য দিয়েছেন যে দরিদ্রতা বাড়বে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কমেছে। মহামারি মোকাবিলাতেও বিশ্বে আমরা পঞ্চম, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে।”

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০