clock ,

নিরাপদ জীবনযাপন কি আমাদের অধিকার নয়?

নিরাপদ জীবনযাপন কি আমাদের অধিকার নয়?

আমার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়া মেয়েটি রাত্রিবেলায় সেভেন ইলেভেন (থাইল্যান্ডের একটি নামকরা সুপারশপ যা দিনের ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে) থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একা একাই কিনে আনছে। এবিষয়ে আমি বা আমার স্ত্রী মোটেও চিন্তিত হচ্ছি না, কেননা সেই ভরসাটুকু এখানে আমাদের তৈরি হয়েছে। এর আগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এক ফিলিপিনো বান্ধবীকে লাইব্রেরী থেকে রাত তিনটার সময় ডরমিটরিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সত্যিই আমি খুব বিব্রত অবস্থায় পড়েছিলাম।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কোয়ার্টার থেকে কাজলা এবং বিনোদপুর বাজার খুব নিকটে। দেশে ফিরে আমাদের কি ইচ্ছা করে না আমাদের সন্তানেরা এই ছোট্ট বয়সে নিজেরাই ক্যাম্পাসে একা একা চলাফেরা করুক। একা একা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাজার থেকে নিয়ে আসুক। কিন্তু না সেই ভরসাটুকু এখন পর্যন্ত পাই না। চারিদিকে এত এত নির্মম লোমহর্ষক সব ঘটনা দেখে সত্যিই খুব চিন্তা হয়। চলন্ত বাসে ডাকাতি এবং শ্লীলতাহানি, দোকানপাট বাড়িতে বাড়িতে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম, এখন এসব নিত্য নৈমিতিক ঘটনা হয়ে গেছে।

অপরাধীরা ভালো করেই জানে, এমন অপরাধ করলে তাদের কিছুই হবে না। সেজন্য চারিদিকে দিনদিন এসব অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ঘরে বাইরে আমরা কেউই নিরাপদ বোধ করছি না। নিরাপদ জীবন যাপনের প্রত্যাশা প্রত্যেক মানুষের অন্তরে লালিত একটি স্বপ্ন। এটি শুধু আর্থিক সমৃদ্ধি বা বাহ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং মানসিক শান্তি, সুস্থতা, নৈতিকতা এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একটি জীবনের প্রতিফলন। নিরাপদ জীবন যাপন তো আমাদের প্রতিটি নাগরিকের অধিকারও বটে। আর সেই অধিকার সুনিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।

ন্যায়বিচার, সুশাসন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম কর্তব্য, যা নাগরিকদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। কিন্তু রাষ্ট্র বা সরকার আদৌ কি তা নিশ্চিত করতে পারছে? যদিও সম্প্রতিঅপারেশন ডেভিল হান্টনামে যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করেছে যা বেশিরভাগই রাজনৈতিক। কিন্তু নিজেদের সহমতের মধ্যেও অপরাধের সাথে জড়িত শয়তানগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে। আর শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে অন্তত কিছুটা সুন্দর এবং নিরাপদ জীবনযাপনের আস্থা তৈরি হতেও পারে।

 লেখক: সহকারী অধ্যাপক (শিক্ষাছুটিতে) আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মাস্টার্স শিক্ষার্থী, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, থাইল্যান্ড

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য