clock ,

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রয়োজন

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রয়োজন

বিশ্ব যখন সংঘাত সংকটের মুখোমুখি, তখন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে থাকে সবাই। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিনি আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। দেশপ্রেমিক আশাবাদী নাগরিকরা বাংলাদেশে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের চার দিনের সফরকে এমন করেই মূল্যায়ন করছেন। মহাসচিবের সফর দীর্ঘদিনের বিরাজিত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুগান্তকারী বার্তা বহন করছে। লাখো রোহিঙ্গাকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র রমজান মাসে ইফতার গ্রহণ অবর্ণনীয় এক দৃশ্যপট তৈরি করেছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারাও এতে যারপরনাই অনুপ্রাণিত।রোহিঙ্গাদের সহায়তা বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবগুতেরেসের এই বক্তব্যে আশাহত রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে নতুন প্রত্যাশা উচ্চকিত হয়েছে। গুতেরেসের এই সফর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিকভাবে লাভবান হয়েছে বলে মনে করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এই সফরের ফলাফল কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি বলেছেন, তাঁর সফরের উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ নতুন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে আশ্বাস দেননি। সম্প্রতি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রায় বিলিয়ন ডলার চেয়েছে জাতিসংঘ। যদিও জাতিসংঘের উপস্থিতি মেঘবৃষ্টির পর আকাশে দেখা দেওয়া রংধনুর মতোদেখতে সুন্দর, কিন্তু বাস্তবসম্মত প্রভাব ফেলতে অক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের তহবিল সংকোচনের কারণে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, এটা একটা আঞ্চলিক সংকট। সংকট মোকাবিলায় ডিসেম্বরে চীন প্রথমবারের মতো ত্রাণ সহায়তায় যুক্ত হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক।

বিগত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। ফলে শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক তহবিল সংকোচনের ফলে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে খাদ্য মৌলিক সেবার অভাব প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় গত আগস্ট থেকে আরও প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) গবেষণায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর নিরাপত্তাহীনতা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। মিয়ানমারের চলমান সংঘাত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে। এই বাস্তবতায়, আমরা আশা করি গুতেরেসের সফর রোহিঙ্গাদের নিরাপদ সম্মানজনক প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ আনবে। একই সঙ্গে, তিনি যেন ক্রমশ কমে আসা আন্তর্জাতিক সহায়তা পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন, সে আহ্বান জানাই। আঞ্চলিক দেশগুলোকেও সংকট সমাধানে মানবিক, রাজনৈতিক আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিতিশীল সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সমস্যা যেন গুরুত্ব না হারায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ এই সংকটের বোঝা একা বহন করতে পারে না, বৈশ্বিক সমর্থনই এর টেকসই সমাধানের চাবিকাঠি।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

সম্পর্কিত খবর

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য