মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

১২ আশ্বিন, ১৪২৯

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

ইউরো-ডলারের দাম বাড়ায় খুশি প্রবাসীরা

অর্থনীতি ডেস্ক | ১২ আগস্ট ২০২২ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ইউরো-ডলারের দাম বাড়ায় খুশি প্রবাসীরা

গত এক সপ্তাহে ইউরো এবং ডলারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এতে খুশি প্রবাসী ও দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবার। কারণ দেশে ভালো রেটে ডলার-ইউরোর বিপরীতে টাকা পাওয়া যাচ্ছে, সাথে বাড়তি শতকরা ২.৫ ভাগ প্রণোদনা তো আছেই। যার ফলে জুলাই মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। কিন্তু তার বিপরীতে রিজার্ভ কমছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিজ্ঞ অর্থনীবিদরা বলছেন- বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায়, অনেক উন্নত দেশ অর্থনৈতিক বিপর্যের মুখে রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারকে সংকুচিত করে ফেলেছেন।

ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও আবারো ঋণ নিচ্ছেন। অনেক দেশ সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করার কারণে করোনার মধ্যেও বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের চাপের মুখে আছে।

গত দুই বছরের করোনার ধাক্কায় সমগ্র বিশ্ব ছিল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখে। আজ থেকে প্রায় তেঁতাল্লিশ বছর আগে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দার পর থেকে অর্থনীতিতে এত বড় আঘাত আর আসেনি। তবে আর্থিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয় প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা উন্নত দেশগুলোতে।

উন্নয়নশীল ও অ-উন্নত অনেক দেশ, যাদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম, আর্থিক মন্দার কবল থেকে নিজেদের অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পেরেছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনার প্রভাব ছিল সমান্তরাল ও অভাবনীয়।

করোনার এ নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বিশ্ব যখন উম্মুখ ঠিক তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই পুনরুদ্ধারের গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে অনেকটাই। ইতোমধ্যে আবারো তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শংকায় চীন-তাইওয়ান সীমান্তে বিরাজ করছে উত্তেজনা।

বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সারা বিশ্বে ‘মূল্যস্ফীতি’ নামক এক অর্থনৈতিক খড়গ আরোপ করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোতে সবার উপরে রয়েছে ‘মূল্যস্ফীতি’।

বাংলাদেশ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নুরুল কবির বলেন, প্রকৃত মূল্যস্ফীতির হার সরকারি হিসাবের তুলনায় একটু বেশিই হবে। কারণ ‘মূল্যস্ফীতি’ হিসাব করতে যে খাদ্য সমারোহ বা ভাণ্ডার বিবেচনা করা হয়, তা অনেকটাই অনেক পুরোনো চিন্তা ধারার। এরই মধ্যে মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হিসাবে পুরোপুরি প্রতিফলিত ঘটায় না।

‘মূল্যস্ফীতি’ কেন হয় এবং কীভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করা যায়, এ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট ধোঁয়াশা। কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বাস্তবতা এত জটিল যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কেউ ভালো করে জানেন না কী কারণে ‘মূল্যস্ফীতি’ হয়।

মূল্যস্ফীতি ব্যাখ্যা করার জন্য অর্থনীতিবিদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের কাছে দুটি প্রচলিত তথ্য রয়েছে- অর্থের তারল্য তথ্য এবং ফিলিপস কার্ভ। অর্থের তারল্য তথ্যের ভাষায়, মূল্যস্ফীতি হলো অর্থ সরবরাহের অত্যাধিক বৃদ্ধির ফলাফল। বেশি অর্থ যখন সীমিত পণ্য এবং সেবার জন্য বরাদ্দ করা হয়, তখন পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যায়। এ আলোকে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে ব্যাখ্যা করার জন্য করোনাকালীন সম্প্রসারণমূলক আর্থিক নীতিকে দায়ী করা হয়।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০