যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত বাজেট বিল পাস হলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ধনকুবের ইলন মাস্ক। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ও কংগ্রেসে উত্থাপিত এই বিলটিকে মাস্ক ‘পাগলাটে’ ও ‘অপচয়পূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে আর কোনো পার্থক্য থাকছে না। তাই “জনগণের আসল কণ্ঠস্বর শোনাতে” তিনি ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের একটি বিকল্প গড়ে তোলার কথা ভাবছেন।
ট্রাম্পের সমর্থনে উত্থাপিত ও সিনেটে পাস হওয়া বাজেট বিলটিতে করছাড় কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও দরিদ্রদের খাদ্যসহায়তা খাতে ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব রয়েছে। এটি এখন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রশাসনের ভাষায়, এই বিল সরকার অচল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সহায়ক। কিন্তু মাস্কসহ অনেকেই মনে করছেন, এটি সাধারণ নাগরিকদের কাঁধে আর্থিক চাপ বাড়াবে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) ৩ জুন মাস্ক লিখেছেন, “আমি দুঃখিত, কিন্তু আর সহ্য হচ্ছে না। এই বিশাল, অপ্রয়োজনীয়, অপচয়ে ভরা ব্যয় বিলটি একেবারে জঘন্য।” এরপর একাধিক পোস্টে তিনি এই বিলের বিরোধিতা করেন এবং বলেন, বিলটি পাস হলে পরদিনই ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হবে।
ইলন মাস্কের রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই দোলাচলপূর্ণ। ২০২২ সালে রিপাবলিকানদের সরাসরি সমর্থন দিলেও পরে সমালোচনায় মুখর হন। কখনো ট্রাম্পের পাশে, আবার কখনো তাঁর বিরুদ্ধে—মাস্কের অবস্থান নড়বড়ে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
৫ জুন মাস্ক একটি অনলাইন জরিপ চালান, যেখানে প্রশ্ন ছিল, “যুক্তরাষ্ট্রে এখন কি এমন একটি নতুন দল দরকার, যা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা ৮০% মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করবে?” ৫৬ লাখ মানুষ এতে অংশ নেন, যার ৮০.৪% উত্তর দেন ‘হ্যাঁ’। মাস্ক বলেন, “এই ফল দেখিয়ে দিচ্ছে, আমেরিকানরা পরিবর্তন চান।”
একজন অনুসারীর ‘আমেরিকা পার্টি’ নামক প্রস্তাবের জবাবে মাস্ক বলেন, “নামটি দারুণ। এটাই হবে সেই দল যারা সত্যিকারের আমেরিকাকে প্রতিনিধিত্ব করবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলন মাস্কের অর্থনৈতিক সামর্থ্য নতুন রাজনৈতিক দল চালানোর পক্ষে যথেষ্ট। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুসারে, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তবে তিনি আদৌ এই পথে এগোবেন কি না, তা নিয়ে মতভেদ আছে।
অধ্যাপক নাতাশা লিন্ডস্ট্যাড (ইউনিভার্সিটি অব এসেক্স): “এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে মাস্ক ঝুঁকি নেবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন।”
অধ্যাপক টমাস গিফট (UCL): “এটা হতে পারে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। দল গঠন করা সম্ভব হলেও নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলাটা কঠিন হবে।”
অধ্যাপক পল লেভিনসন (ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি): “যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় রাজনৈতিক দলগুলো ইতিহাসে খুব একটা সফল হয়নি—even থিওডোর রুজভেল্টও ১৯১২ সালে পরাজিত হন।”
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করে সফল হওয়া দুষ্কর। প্রচলিত দুই দল—ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—গভীর শিকড় গেড়ে বসে আছে প্রশাসন ও নির্বাচনী কাঠামোতে। মাস্ক যদি সত্যিই ‘আমেরিকা পার্টি’ গড়ে তোলেন, তবে তা ঐতিহাসিক ব্যতিক্রম হবে। তবে বিশ্লেষকেরা এটিকেও সম্ভাব্য মিডিয়া স্টান্ট বা কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছেন।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?