বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচনকে দেশি-বিদেশি পরিসরে গ্রহণযোগ্য করার যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।
ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। কারণ, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যদি এমন সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে একই নীতিতে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় বিদেশি পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করলে তাদের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, পর্যবেক্ষকদের কাজের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে। সে ক্ষেত্রে কমিশনের অর্থায়নে সেই মূল্যায়ন কতটা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সাল বা তার আগের নির্বাচনগুলোতে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এ ধরনের বিশেষ সুবিধার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মসমালোচনা জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দায়িত্ব পালন করা নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের মানদণ্ডে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা পর্যবেক্ষকদের নিজস্বভাবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, আগের সরকার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করার যে প্রচেষ্টা নিয়েছিল, তা কতটা সফল হয়েছিল—বর্তমান নির্বাচন কমিশনের তা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনমনে যে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষাকে বিতর্কিত করার পথ থেকে কমিশন সরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা টিআইবির।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?