২০২৪–২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন মাসেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে—গত ২৮ মাসে যা সর্বোচ্চ।
গত অর্থবছর (২০২৪–২৫) পুরো বছরে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় হয়েছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ড। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। বছর ব্যবধানে বেড়েছে ৬.৪১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঈদের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকার পরও জুনে উচ্চ রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে সরকারপ্রধানের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান ও হুন্ডি চক্রের দমনে আন্তঃসংস্থাগত অভিযান। ১১টি যৌথ তদন্ত টিম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি দায়িত্বশীল সূত্র। এসব কারণে পাচারকারীরা গা-ঢাকা দিচ্ছে এবং রেমিট্যান্সের বড় অংশ বৈধ পথে আসছে।
এছাড়া জুনে রপ্তানি আয়েও ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ এসেছে সরকারের হাতে। ফলে সব মিলিয়ে জুন শেষে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৩ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। ওই সময়ে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ৩১.২৯ বিলিয়ন ডলার।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, বিপিএম৬ মানদণ্ড অনুসারে বর্তমানে নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৬৬ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় ছিল মাত্র ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে অর্থপাচার, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ায় তা দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের নানা উদ্যোগে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?