clock ,

মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দিল মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, ১৯ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দিল মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, ১৯ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ রাজধানী কুয়ালালামপুরের কুচাই লামা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েগ্যাং সজলনামে পরিচিত একটি মানবপাচার অবৈধ অভিবাসী চোরাচালান সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। অভিযানে ১৯ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির দুই মূল পরিবহনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের একজন মালয়েশীয় নাগরিক এবং অন্যজন বাংলাদেশি।

দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান সোমবার ( ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার ( ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক এই অভিযানের প্রথম ধাপে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় দুটি সন্দেহভাজন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সময় ছয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি নারী এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়।

আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযানে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হানা দেওয়া হয়। ভবনটি সিন্ডিকেটটির আস্তানা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। সেখানে দক্ষিণ মালয়েশিয়া ক্লাং ভ্যালি এলাকায় পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা আরও ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।

জাকারিয়া শাবান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা সবাই সম্প্রতি কেলান্তান সীমান্তের একটি অবৈধ প্রবেশপথ ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে। সিন্ডিকেটটি গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সক্রিয় ছিল এবং তৃতীয় কোনো দেশ ব্যবহার করে অভিবাসীদের প্রথমে সেখানে নেওয়া, পরে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো ছিল তাদের প্রধান কৌশল। প্রতিটি অভিবাসীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১২ হাজার রিঙ্গিত আদায় করা হতো। মাত্র দুই মাসেই চক্রটি প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ আয় করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযানে মানবপাচারে ব্যবহৃত দুটি যানবাহন, বাংলাদেশের একাধিক পাসপোর্টের কপি, নগদ ৮২ হাজার ১০০ রিঙ্গিত এবং হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়েছে। আটক ২০ জনের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।

বারনামা জানায়, সব সন্দেহভাজনকে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক রাখা হয়েছে। মানবপাচার অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইন ২০০৭, ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর আওতায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য