কাশ্মীরের বান্দীপোরার ঐতিহাসিক উলার হ্রদ যেন ফিরে পেয়েছে তার পুরনো রূপ। তিন দশক পরে আবারও ফুটেছে গোলাপি পদ্ম। হ্রদের পাড়ে দাঁড়িয়ে আবদুল রশিদ দারের চোখে ভেসে উঠেছে শৈশবের ছবি—যখন তিনি বাবার সঙ্গে নৌকায় করে হ্রদের বুকে গিয়ে পদ্মকাণ্ড তুলতেন। সেই বিস্ময় আর আবেগেই তিনি ছুঁয়ে দেখছেন একেকটি পদ্মপাপড়ি—এ যেন জল নয়, স্বপ্নের বিস্তার।
১৯৯২ সালের ভয়াবহ বন্যায় উলারের পদ্ম হারিয়ে গিয়েছিল পলির নিচে। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয়রা বিশ্বাস করতেন—আর কখনও পদ্মফুল ফুটবে না এখানে। কিন্তু ২০২০ সালে উলার হ্রদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুরু হলে পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। লক্ষ্যমাত্রা ধরে শুরু হয় পলি অপসারণ, আর সেই কাজের সুফল মিলতে শুরু করে ২০২৪ সালে—কয়েকটি পদ্মফুল দেখা যায় হ্রদের জলে।
২০২৫ সালে পদ্মের বিস্তৃতি আরও বড় আকার ধারণ করেছে। এতে প্রাণ ফিরছে কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী একটি পেশা—নাদরু সংগ্রহে। স্থানীয়ভাবে ‘নাদরু’ বলা হয় পদ্মকাণ্ডকে, যেটি দিয়ে তৈরি হয় কাশ্মীরের জনপ্রিয় খাবার ‘নাদরু ইয়াখনি’। অনেক বেকার যুবকের কাছে এই পদ্ম এখন জীবিকার নতুন আশা।
লঙ্ক্রেশিপোরা গ্রামের মানুষজন বলছেন, “পদ্ম শুধু ফুল নয়, এটি এখন আমাদের পরিবারের ভরসা।”
উলারের জোনাল অফিসার মুদাসির আহমেদ জানান, “যেখানে পলি সরানো সম্ভব হয়েছে, সেখানেই আবার ফুটছে পদ্ম। আমরা এখন পর্যন্ত ৭৯ লক্ষ ঘনমিটার পলি অপসারণ করেছি। তবে উলারের সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে আরও কয়েক বছর।”
স্থানীয়দের ভাষায়, এই পদ্ম যেন শুধু প্রকৃতির নয়, জীবনেরও পুনর্জন্ম। ৩০ বছর পর উলার হ্রদের জলে আবারও ফুটেছে যে স্বপ্ন—তার গন্ধে উচ্ছ্বসিত গোটা বান্দীপোরা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?