জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইমকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা গুলি করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই রবিউল আওয়াল ভূঁইয়া। সোমবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন।
রবিউল জানান, যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী সেতুর পাশে প্রথমে উপপরিদর্শক সাজ্জাদুজ্জামান পায়ে গুলি করেন ইমাম হাসানকে। পরে এডিসি শামীম অস্ত্র নিয়ে শরীরের নিচের দিকে গুলি চালান। সর্বশেষ ওসি তদন্ত জাকির হোসেন বারবার গুলি করেন।
তিনি আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইমাম হাসান আধাঘণ্টা মাটিতে পড়ে ছিলেন। এরপর পুলিশ ভ্যানে করে থানার সামনে নেওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে বুট দিয়ে মাড়িয়ে মুখমণ্ডল বিকৃত করে দেন।
ট্রাইব্যুনালে আরও দুই সাক্ষী—শহীদ আস-সাবুরের বাবা মো. এনাব নাজেজ জাকি ও রাজশাহীর জসিম উদ্দিন—জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা সবাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দায়ী করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আসামি। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে অ্যাপ্রুভার হয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। আগামী কাল (২০) আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?