clock ,

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশি: আইএসে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে গভীর উদ্বেগ

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশি: আইএসে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে গভীর উদ্বেগ

মালয়েশিয়ায় জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সিরিয়া বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিভিন্ন সেলকে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ এনেছেন দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) খালিদ ইসমাইল। শুক্রবার ( জুলাই) কুয়ালালামপুরে বুকিত আমানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

খালিদ ইসমাইল বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মালয়েশিয়া জুড়ে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত অভিযানে এই বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত নির্মাণ, কারখানা সেবাখাতে কর্মরত ছিলেন। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়ানোর অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, ওই বাংলাদেশিদের একটি সংগঠন, যেটিগেরাকান মিলিটান ্যাডিকাল বাংলাদেশ’ (জিএমআরবি) নামে পরিচিত, তারা হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ প্রচারণা চালাত। তাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইজিপি জানান, এই চক্রের সদস্যরা আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস -ওয়ালেট ব্যবহার করে সিরিয়া বাংলাদেশে আইএস সেলগুলোতে অর্থ পাঠাত। প্রতি সদস্যকে বছরে ৫০০ রিংগিত (প্রায় ১৩ হাজার টাকা) করে ফি দিতে হতো, এছাড়াও সদস্যদের কাছ থেকে অনুদান আদায় করা হতো।

মালয়েশিয়া পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ইতোমধ্যে অর্থ লেনদেনের বেশ কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। আইজিপি বলেন, এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ জানা না গেলেও চাঁদা সদস্য ফি থেকেই অর্থায়ন চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ৩৬ জনের মধ্যে জনের বিরুদ্ধে সরাসরি সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, ১৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,১৬ জন এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যাদের সংশ্লিষ্টতা কম, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইজিপি।

রয়টার্স জানিয়েছে, মালয়েশিয়া ২০১৬ সালে কুয়ালালামপুরে আইএস-সংশ্লিষ্ট বোমা হামলার পর থেকে জঙ্গি দমনে কড়া অবস্থান নেয়। এরপর থেকে শত শত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন ধরপাকড়ের হার কমেছে।

মালয়েশিয়া ব্যাপকভাবে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে নির্মাণ শিল্প খাতে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক সে দেশে যান, যার মধ্যে কিছু অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে বসবাস করেন।

ঢাকায় বৃহস্পতিবার ( জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা মালয়েশিয়ার কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছি। আশা করছি, দুই-চার দিনের মধ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার হবে।

তিনি আরও বলেন, “যদি প্রমাণিত হয়, তারা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত, তাহলে বাংলাদেশ সরকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কেবল বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সম্পর্কেই নয়, বরং বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তির জন্যও এক বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বাংলাদেশের তরফে ঘটনায় সঠিক তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে জঙ্গি প্রভাব মোকাবেলায় কঠোর নজরদারি সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য