পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭৬ জন আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও রেসকিউ দল।
বুধবার রাত পর্যন্ত মাত্র ১০ ঘণ্টায় চাকওয়াল জেলায় রেকর্ড ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা তাৎক্ষণিক প্লাবনের সৃষ্টি করে। রাওয়ালপিণ্ডির লেহ নাল্লার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাঞ্জাব ওয়াসার মহাপরিচালক তৈয়ব ফারিদ জানান, রাওয়ালপিণ্ডি, চাকওয়াল ও আশপাশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, "জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো মাঠে রয়েছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা ও বৈদ্যুতিক লাইনের কাছে না যেতে সতর্ক করা হয়েছে।"
পিডিএমএ মুখপাত্র ইরফান আলী কাঠিয়া জানান, বৃষ্টিপাত সাময়িক থেমে যাওয়ায় কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে, তবে উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে। রাওয়ালপিণ্ডির গাওয়ালমন্ডি, কট্টারিয়ান ব্রিজসহ বেশ কিছু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ৪০ জনের বেশি মানুষকে বন্যার পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানির মধ্যে রয়েছে—লাহোরে ১৩ জন, ফয়সালাবাদে ৮ জন, পাকপত্তনে ৪ জন, শেখুপুরা ও ওকারায় ৩ জন করে এবং নানকানা সাহিব ও সাহিওয়ালে ১ জন করে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৭ জুলাই পর্যন্ত বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত পাকিস্তানে প্রায় প্রতি বছরই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সরকারি হাসপাতাল, স্কুল এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর আরও সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পিডিএমএর জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও হেলিকপ্টারসহ সব ধরনের উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?