clock ,

নতুন কর্মী নিয়োগে ইতালির পরিকল্পনা;বাড়তে পারে বাংলাদেশিদের বৈধ অভিবাসনের সুযোগ

নতুন কর্মী নিয়োগে ইতালির পরিকল্পনা;বাড়তে পারে বাংলাদেশিদের বৈধ অভিবাসনের সুযোগ

ইতালি আগামী তিন বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে পাঁচ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেবে। জনশক্তির ঘাটতি মোকাবিলা অর্থনীতির গতি ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। সোমবার (২৩ জুন) ইতালির মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে মোট লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী বছরেই (২০২6) ইতালি লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেবে বলে জানানো হয়েছে।

ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় পরিসরে বৈধ অভিবাসনের জন্যডিক্রেটো ফ্লুসিনামের কর্মসূচি চালু করলেন। এর আগেও ২০২৩২০২৫ মেয়াদে সাড়ে চার লাখের বেশি বিদেশি কর্মীকে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইতালি।

ইতালির সরকার যেমন বৈধপথে কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মেলোনির সরকার অভিবাসীদের উদ্ধারে ভূমধ্যসাগরে এনজিওগুলোর কাজ সীমিত করা, দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালু, এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইতালির সমাজে বয়স্ক জনসংখ্যার আধিক্য এবং জন্মহারের নিম্নগতি এক গুরুতর সংকট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে জন্ম নেওয়া শিশুর তুলনায় মারা গেছেন দুই লাখ ৮১ হাজার বেশি মানুষ। ফলে দেশটির জনসংখ্যা ৩৭ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে কোটি ৮০ লাখ ৯৩ হাজারে। গত এক দশক ধরেই এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

কৃষি খাতের শক্তিশালী লবি Coldiretti ইতালির এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণ হবে এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বস্তি আসবে। ইতালির থিংক ট্যাংক R.EconT Publics বলছে, বর্তমান জনসংখ্যা ধরে রাখতে দেশটিকে ২০৫০ সালের মধ্যে অন্তত এক কোটি নতুন অভিবাসী দরকার হবে।

ইতালির নতুন কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর একটি কারণ হলো, ২০২৪ সালের মে মাসে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি ঢাকায় সফর করেন। সে সময় বাংলাদেশ ইতালির মধ্যে একটিমাইগ্রেশন অ্যান্ড মবিলিটিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়।

স্মারকে বৈধপথে অভিবাসন সম্প্রসারণ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা . আসিফ নজরুল, এবং ইতালির পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়ান্তেদোসি।

. আসিফ নজরুল জানান, “ইতালি সিজনাল নন-সিজনাল দুই ধরনের কর্মী নিয়োগ করবে। বাংলাদেশ থেকে যেন প্রশিক্ষিত কর্মীরা নিয়মিত পথে ইতালি যেতে পারেন, সে জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা চালু করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

সম্পর্কিত খবর

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য