clock ,

জাপানে শ্রমবাজার: নেপালের অর্ধলাখ, বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে তিন হাজার কর্মী

জাপানে শ্রমবাজার: নেপালের অর্ধলাখ, বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে তিন হাজার কর্মী

জাপানের শ্রমবাজারে বিশাল সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বিপরীতে, প্রতিবেশী নেপাল, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক দেশটিতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালে জাপানে গেছেন নেপালের প্রায় ৫০ হাজার কর্মী, অথচ বাংলাদেশ থেকে গেছেন মাত্র সাড়ে তিন হাজার।

জাপানের শ্রমবাজারে এই ঘাটতির মূল কারণ—দেশটির প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও জন্মহার হ্রাস। ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণসহ ১৬টি খাতে শ্রমিকের তীব্র চাহিদা দেখা দিয়েছে। চাহিদা মেটাতে জাপান সরকার বিদেশিদের জন্য ভিসা নীতিও শিথিল করেছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার আইএম জাপানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো শুরু করে। তবে ভাষাজ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি, ধীর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণের মানহীনতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে এই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে জাপানে সরকার অনুমোদিত ৯৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৩০টি সক্রিয়ভাবে কর্মী পাঠাচ্ছে। এই সময়ে মাত্র ৫ হাজার ১৪ জন কর্মী জাপান গেছেন। আইএম জাপান প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ৭০২ জন কর্মী জাপানে গিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি প্রয়োজন। জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগে। কিন্তু প্রশিক্ষণ ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই মাঝপথে ছিটকে পড়েন।

গত ২৯ মে জাপান সরকার বাংলাদেশকে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কারণ, ভাষা ও প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখনও দুর্বল।

‘জাপানের শ্রমবাজার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সাম্প্রতিক সেমিনারে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই জাপানি ভাষার দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। এন-ফোর স্তরের প্রশিক্ষণ পর্যাপ্ত নয়, ফলে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানো শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, বেকারত্ব হ্রাসেরও বড় একটি উপায়। দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ বেকার রয়েছে, যাদের দক্ষ করে তোলা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এটি বিশাল অবদান রাখবে।

তাই এখনই সময়, প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষায় বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী কৌশল হাতে নেওয়ার। শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে ফল দিতে হবে।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য