উন্নত জীবনের স্বপ্নে জাপানে পাড়ি জমিয়েছিলেন ২৬ বছরের বাংলাদেশি তরুণ মোহাম্মদ আফরিজি বিন আপন। কিন্তু একাকীত্ব, আর্থিক সংকট ও মানবিক সহায়তার অভাবে সেই স্বপ্নই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। শেষমেশ, টানা কয়েকদিন অনাহারে থেকে এক মর্মান্তিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি—যা জাপানে অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মোহাম্মদ আফরিজি ছিলেন একজন শিক্ষার্থী, যিনি জাপানে একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে কলেজে বকেয়া ফি পরিশোধ করতে না পারায় একে একে বন্ধ হয়ে যায় তার জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেবা—বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও মোবাইল সংযোগ।
এ অবস্থায় তিনি নিজ বাসাতেই বন্দী হয়ে পড়েন। দীর্ঘসময় ধরে বাইরের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। প্রতিবেশীরা লক্ষ্য করেন, টানা ১৫ দিন ধরে তাকে বাইরে দেখা যায়নি। কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার দিয়ে গেলেও সেগুলো অবস্থান করছিল ঠিক আগের জায়গাতেই—প্রমাণ করে ভেতর থেকে কেউ তা নিতে পারেননি।আফরিজির বন্ধু ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য হাসান রবিন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, “শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল রান্নাঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে। তিনি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে জানাচ্ছিলেন, চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন। বলেছিলেন, চারদিন ধরে কিছু খাননি।”
বন্ধুরা পরিকল্পনা করেছিলেন, রোববার পুলিশ ও জরুরি সেবার সহায়তায় দরজা খোলা হবে। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই আফরিজি জীবনের সকল আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন।
জাপানের
আইন অনুযায়ী, মালিকের অনুমতি বা উপযুক্ত আইনগত
আদেশ ছাড়া কোনো বাসার
দরজা ভাঙা নিষিদ্ধ। এই
কারণেই সময় মতো তাকে
উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় আফরিজির দেহ
ছিল কঠিন ও শীর্ণ;
যেন তার ওজন ছিল
১০ কেজিরও কম।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?