clock ,

চীনা অর্থায়নে বিজ্ঞান জার্নাল প্রকাশ বন্ধ করলো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস

চীনা অর্থায়নে বিজ্ঞান জার্নাল প্রকাশ বন্ধ করলো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস

চীনের বিতর্কিত ফরেনসিক গবেষণা নিয়ে নৈতিকতা মানবাধিকার প্রশ্নে তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে চীনের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস (ওইইউপি)

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফরেনসিক সায়েন্স রিসার্চ (FSR)’ নামক জার্নালটির প্রকাশনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ করবে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এই জার্নালটি চীনের অ্যাকাডেমি অব ফরেনসিক সায়েন্স কর্তৃক প্রকাশিত, যা সরাসরি দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীন। এটি চীনের ফরেনসিক মেডিসিন সংক্রান্ত একমাত্র ইংরেজি ভাষার ত্রৈমাসিক জার্নাল। ওইইউপি ২০২৩ সাল থেকে এটি প্রকাশ করছিল।

FSR- প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক দেখা দেয়। সমালোচকদের দাবি, এসব গবেষণায় চীনের উইঘুর অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করা হয়েছেএবং তা হয়তো তাদের স্বেচ্ছা সম্মতি ছাড়াই।

বিশেষত, ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উরুমকির ২৬৪ জন উইঘুর নাগরিকের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, তারা সম্মতি দিয়েছিলেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা মূল বিষয়টি হলো, উইঘুরদের আদৌনাবলার স্বাধীনতা ছিল কিনা।

গবেষণার মূল লেখকের সাথে চীনের নিরাপত্তা সংস্থার যোগসূত্র এবং জিনজিয়াং পুলিশ কলেজের অর্থায়ন পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৪ সালে ওইইউপি নিজেইএক্সপ্রেশন অব কনসার্নশিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে, যেখানে উইঘুরদের স্বাধীনভাবে গবেষণায় অংশগ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে বিতর্কিত সেই গবেষণাপত্র এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

এফএসআর এবং ওইইউপির সম্পর্ক নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব লুভেনের প্রকৌশল অধ্যাপক ইভ মোরো। তিনি বলেন, “ওইইউপির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই, তবে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক বিষয় উপেক্ষা করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের জেনেটিক গবেষণার নৈতিক মান নিয়ে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে একাধিক প্রকাশনা সংস্থা ইতোমধ্যেই চীনের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত বছরই একটি শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক সংস্থা ১৮টি চীনা গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের পদক্ষেপকে অনেকেই বিজ্ঞান জগতের নৈতিক জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য