ইন্দোনেশিয়ায় তরুণ বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ, যাদের একটি বড় অংশই কর্মহীন। এমন চিত্র উঠে এসেছে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আইনের ছাত্র অ্যান্দ্রিয়াস হুতাপিয়া পড়াশোনা শেষে ভেবেছিলেন, চাকরি পাওয়া খুব কঠিন হবে না। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। একাধিকবার চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়েছেন তিনি। সরকারি চাকরির পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সেখানে পাসের হার মাত্র ৩ শতাংশ। আর্মিতে যোগ দিতে চাইলেও উচ্চতার অভাবে সেটিও সম্ভব হয়নি।
অর্থ সংকটে পড়ায় অবশেষে নিজের বাসা ছেড়ে পিতা-মাতার সঙ্গে ফিরে গিয়ে তাদের মুদি দোকানে কাজ শুরু করেন হুতাপিয়া। তিনি বলেন, “সকালে দোকানে বসি, দিনভর বিক্রি করি। কোনো মজুরি নেই। তবে অভিযোগও নেই, কারণ মা-বাবা আমাকে খাওয়াচ্ছেন, থাকতে দিচ্ছেন।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার দ্বিগুণেরও বেশি। চাকরির অভাবে অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন অনানুষ্ঠানিক খাতে, যেখানে সুরক্ষা ও স্থায়িত্ব নেই।
এমন বাস্তবতায় নতুন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বেকারত্ব সমস্যাকে স্বীকার করে এর সমাধানে ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠনের কথা জানিয়েছেন।
চাকরি না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে তরুণ সমাজ। সরকারি ব্যয় হ্রাসের প্রতিবাদে ফেব্রুয়ারিতে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। জরিপে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার তরুণেরা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর কিংবা ফিলিপাইনের তরুণদের তুলনায় নিজ দেশের সরকার ও অর্থনীতি নিয়ে বেশি হতাশ।
২৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে বেকার তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?