ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মেয়েদের ভারতে পাচারের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) প্রতিবেদনে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দরাবাদে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তি সংক্রান্ত এক মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারের জন্য বাংলাদেশ সীমান্তের দালালদের মাথাপিছু ৪-৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো।
হায়দরাবাদে পরিচালিত একটি চক্র পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশি মেয়েদের পাচার করতো। জামাকাপড় সেলাই, বিউটি পার্লার, ইস্পাত কারখানা ও পরিচারিকার কাজের নামে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হতো। পরে জোরপূর্বক তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।
পাচারকৃতদের অর্থ লেনদেনে ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন ওয়ালেট।বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা 'বিকাশ' ব্যবহার করতো চক্রটি। পাচারের সঙ্গে জড়িত ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ভারতের এনআইএ বিশেষ আদালত। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
ইডির মতে, চক্রটির বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও, সীমান্তবর্তী কিছু দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নারী পাচার অব্যাহত ছিল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও পাচার রোধে দুই দেশের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?