কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার উপায় নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অঙ
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অঙ বলেছেন, দেশের ছোট পরিসরকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আরও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। গত ২৯ জুলাই ইনস্টিটিউট অফ পলিসি স্টাডিজ (IPS)) ও সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন (SBF) এর যৌথ সম্মেলন “Global-City Singapore: SG60 and Beyond” শীর্ষক সংলাপে একথা বলেন। সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ওচঝ পরিচালক জানাদাস দেবান এবং আলোচনার বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক, সিঙ্গাপুরের সামাজিক চুক্তি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অসমতা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল নেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর কতটা প্রস্তুত অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-ল’ টমি কোহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অঙ বলেন, এই প্রযুক্তিতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে যা কাজে লাগানো যেতে পারে। আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে কিভাবে প্রতিটি কোম্পানি বড় হোক বা ছোট, বিশেষ করে ছোট উদ্যোগগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে। যদিও AI এখন অনেকের জন্য সহজলভ্য, অধিকাংশ মানুষ এখনও এর সম্পূর্ণ ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে না। আমরা বেশিরভাগই AI ব্যবহার করি ঠিক যেমন গুগল ব্যবহার করি, যা আসলেই AI এর সেরা ব্যবহার নয়। সম্প্রতি আমি এক সিইও’র সঙ্গে আলোচনা করেছি যিনি তার ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে সময় নিয়ে ভাবছেন কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের কোম্পানিকে পরিবর্তন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী অঙ বলেন, প্রযুক্তির অগ্রদূত দেশগুলো বিশেষ সুবিধা পায় যারা cutting-edge প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কিন্তু আসল লাভ আসে তখন, যখন প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং দেশগুলো পুরো অর্থনীতিতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে যাতে এটি স্থানীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের কোনো বিকল্প নেই, তবে এটি এমনভাবে করা উচিত যা অর্থবহ ও পরিকল্পিত হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে। সিঙ্গাপুরে আমাদের যা করতে হবে তা হলো এআই নিয়ে বেগবান না হয়ে সুচিন্তিতভাবে এগোনো। প্রযুক্তিকে গ্রহণ করো, ব্যবহার করো, তবে সবসময় নিশ্চিত করো যে আমরা যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো গ্রহণ করছি, সেই শক্তি শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে, বরং তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে এবং শ্রমিকরা এই নতুন পরিবেশে উন্নতি করতে পারে।
সিঙ্গাপুর কীভাবে বাণিজ্য শুল্ক এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অঙ জানান, তাৎক্ষণিক বিষয়গুলো ছাড়াও, সিঙ্গাপুরের সরকার এবং সমাজকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সেটিও চিন্তা করতে হবে। পরিবর্তিত বিশ্বে আমাদের অর্থনৈতিক কৌশলগুলোকে হালনাগাদ ও পুনর্বিন্যাস করা জরুরি। সিঙ্গাপুর বিভাজিত বিশ্বের মধ্যেও একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে, যেখানে আন্তর্জাতিক শহরগুলো বিশেষভাবে নেতৃত্ব দেবে। পরিবর্তিত বিশ্বে সিঙ্গাপুরের অবস্থান কী হবে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিশেষ স্থান হতে চাই, একটি উজ্জ্বল কেন্দ্র যেখানে মানুষের সৃজনশীলতা ফুটে ওঠে, এবং যেখানে মানুষ ব্যবসা করতে ও সফলতা অর্জনে আগ্রহী হয়। সিঙ্গাপুরকে অন্যদের নকল করতে হবে না, বরং নিজেদের পথ নির্ধারণের জন্য আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আমরা কখনো নিউ ইয়র্ক বা প্যারিসের মতো হবো না এবং হওয়ার দরকার নেই। এখানে আমরা বিশ্বনাগরিক হলেও আমরা এশীয়, আমরা বহুসংস্কৃতির দেশ। তিনি স্বীকার করেন, কেউ কেউ সিঙ্গাপুরকে কিছুটা নিস্তেজ মনে করতে পারেন, এবং কিছুটা সত্যতা রয়েছে এ কথায়, যদিও দেশটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার এবং জীবনযাত্রার সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে একই সঙ্গে আমরা স্থিতিশীল, বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য। এই গুণগুলো এমন অমূল্য সম্পদ, যা অন্য দেশরা পেতে চায়। সিঙ্গাপুরকে তার শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং বিশ্বে নতুন মূল্য যোগ করতে হবে। আমরা এটা অর্জন করতে পারব। আমাদের ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে, যা আমাদের সুনাম ও কাজের দক্ষতার ফল। এই শক্ত ভিতের ওপর আরও উন্নতি করে আমরা আরও ভালো করতে পারব।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?