যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বৈধ ভিসাধারীর তথ্য পুনঃযাচাই শুরু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার করা হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ভিসাধারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যাদের অধিকাংশই গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও পর্যটকরাও অন্তর্ভুক্ত। যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে—
-
ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া,
-
অপরাধে সম্পৃক্ততা,
-
সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকা বা সহায়তা দেওয়া,
-
জননিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করা।
শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললেই ভিসা বাতিল হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার রেকর্ড, অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য এবং নতুন উদ্ভূত তথ্যও যাচাই-বাছাইয়ের অন্তর্ভুক্ত।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিসাধারী আইন ভেঙেছেন, আর ২০০–৩০০ জনের ভিসা বাতিল হয়েছে সন্ত্রাসীদের সমর্থনের অভিযোগে। সম্প্রতি ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের কয়েকজন বহিষ্কারের বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ভিসা বাতিলের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখে, যা আগের বছরের ১ কোটি ১৮ লাখ থেকে দ্রুত বেড়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০০৭ সালে (১ কোটি ২২ লাখ)।
পিউ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের মাধ্যমে, যারা আগে অস্থায়ী আইনি সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। যদিও সমালোচকদের অনুমান ছিল ১ কোটি ৮৬ লাখ অবৈধ অভিবাসী, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে কম বলেই জানাচ্ছে গবেষণা সংস্থাটি।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?