clock ,

বিমানের ট্রাফিক হেলপার থেকে লিবিয়ার শীর্ষ মানবপাচারকারী শওকত

বিমানের ট্রাফিক হেলপার থেকে লিবিয়ার শীর্ষ মানবপাচারকারী শওকত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ট্রাফিক হেলপার মো. শওকত আলী অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেছেন লিবিয়ায় বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি। কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেই তিনি এই অবস্থানে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার আব্দুল লতিব মাতুব্বরের ছেলে শওকত এয়ারলাইন্সে ট্রাফিক হেলপার হলেও প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। গত মার্চে লিবিয়ায় মানবপাচারের ঘটনায় আটক ফখরুদ্দিন নামে এক পাচারকারীকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। পরে পুলিশ দুজনকেই গ্রেফতার করে।

সিআইডি জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের আউটপাসে দেশে ফেরেন ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। চার্টার ফ্লাইট (UZ-222) যোগে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য লিপিবদ্ধকরণের সময় সিআইডি ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহযোগিতায় মানবপাচার চক্রের এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সাখাওয়াত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় মাফিয়া সিন্ডিকেট পরিচালনা ও অপহরণে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের হওয়া আরেকটি মামলার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সিআইডি শিগগিরই এসব মামলা অধিগ্রহণ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাখাওয়াত হোসেন স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে চারটি বোটে করে লিবিয়া থেকে ইতালিতে অবৈধভাবে পাঠান এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। তার দেওয়া তথ্যে আরও কয়েকজন মানবপাচারকারী ও সহযোগীর নাম পাওয়া গেছে। সিআইডি জানিয়েছে, মানবপাচার প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

সম্পর্কিত খবর

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য