clock ,

নগরীর বুকে ভয়াবহ ডাবল মার্ডার: ছোট সাজ্জাদের পরিকল্পনায় রক্তাক্ত চট্টগ্রাম

নগরীর বুকে ভয়াবহ ডাবল মার্ডার: ছোট সাজ্জাদের পরিকল্পনায় রক্তাক্ত চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের নগরীতে প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ারের মাধ্যমে দুটি প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় সমপ্রতি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের হাতে সাজ্জাদের গ্রেপ্তার হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধের নীলনকশা আঁকেন তার স্ত্রী তামান্না। তার নির্দেশেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গত ১লা এপ্রিল সন্ধ্যায় নিহত বখতিয়ার হোসেন মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না ছাড়াও মোহাম্মদ হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, খোরশেদ, রায়হান এবং বোরহানকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, ছোট সাজ্জাদ তার স্ত্রী তামান্নার পরিকল্পনা অনুসারে একটি দল সারোয়ার হোসেন বাবলা তার সহযোগীদের হত্যার উদ্দেশ্যে প্রাইভেটকারের পিছু নেয়।

নিহত বখতিয়ার হোসেন মানিক ছিলেন সেই গাড়ির চালক এবং নিহত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলার দেহরক্ষী। ঘটনার রাতে মানিক, সারোয়ার, আবদুল্লাহ, রবিন, হৃদয় ইমন প্রাইভেটকারে করে নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত ২টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় রাজাখালী ব্রিজ এলাকায় ছয়-সাতটি মোটরসাইকেল থেকে প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার শুরু হয়। মুহূর্তেই গাড়ির পেছনের কাচ ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চালক মানিক বহদ্দারহাটের দিকে না গিয়ে চকবাজারের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে দেন। রাত সোয়া ২টার দিকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কে গাড়িটি থামলে হামলাকারীরা আবারও অস্ত্র হাতে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চালক মানিক দেহরক্ষী আবদুল্লাহ। অন্যদিকে, গাড়িতে থাকা সারোয়ার ইমন কোনোমতে পালিয়ে যান। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মানিক আবদুল্লাহকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের গ্যাংওয়ার, চাঁদাবাজি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব। স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোট সাজ্জাদ সারোয়ার হোসেন বাবলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সাজ্জাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাবলার সংশ্লিষ্টতার গুজব ছড়ায়।

হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে রাউজানে নিহত আবদুল্লাহর পায়ে গুলি করেছিল সাজ্জাদ। ফলে সে দুই মাস ঘর থেকে বের হয়নি। ঈদের কেনাকাটার জন্য সেই রাতে বাইরে বের হয়েছিল আবদুল্লাহ, যা তার জীবনের শেষ রাত হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক এক শীর্ষ নেতার অনুসারী ছাত্রদলের এক সহ-সম্পাদক এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া নগরীর কুখ্যাত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নামও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে আসছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং শিগগিরই প্রকৃত কারণ জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নগরবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার শাস্তির দাবি তুলেছেন।

এই হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র একটি গ্যাংওয়ারের প্রতিফলন নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলা। রাজনৈতিক এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের এই রক্তাক্ত খেলায় সাধারণ নাগরিকরাও ভুক্তভোগী হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জকীভাবে এই অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায় এবং ভবিষ্যতে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য