প্রথমে নাম ছিল চন্দ্রিমা উদ্যান। তারপর হলো জিয়া উদ্যান। এরপর নাম বদলে আবার চন্দ্রিমা তারপর আবার জিয়া; তারপর আবার চন্দ্রিমা এবং এখন আবার জিয়া হয়েছে। নাম যা-ই হোক, আমার কোন আপত্তি নাই। আমার আপত্তি এখানকার পরিবেশ নিয়ে। গত চৌদ্দ বছর ধরে এখানে হাঁটি। এই ‘পাবলিক প্লেস’এর পরিবেশগত ক্রমাবনতির আমিও একজন সাক্ষী।
একসময় এখানে নানান রকম ফুল আর পাতাবাহার দেখেছি। এখন রাস্তার ধারে কৃষ্ণচূড়া আর লেকের ধারে বটলব্রাশ ছাড়া আর কোন ফুল চোখে পড়ে না। এই উদ্যানে একটা বোধিবৃক্ষ আছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির দেওয়া উপহার, লাগানো হয়েছিল ১৯৮১ সালে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আপনি খুঁজে পাবেন না, কারণ কোথাও কিছু লেখা নেই। আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, বছর তিনেক আগেও আমি এখান থেকে পুনর্নবা শাক তুলেছি। এখন আর নেই। এখন যেদিকেই তাকাই বেশিরভাগই দেখি আকাশমনি আর ইউক্যালিপ্টাস। বাংলাদেশের আইন অনুসারে যা লাগানো নিষেধ।
একসময় এখানে দু'একজনকে লুকিয়ে চুরিয়ে সিগারেট খেতে দেখেছি, এখন এখানে সিগারেট সহ আরো হরেক রকম হকারের বেচাকেনা দেখি। অথচ আইন অনুসারে পাবলিক প্লেসে ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ!
ঝরে পড়া সোনার কণার সাথে পুষ্পমঞ্জরির মিল পেয়ে রবীন্দ্রনাথ আকাশমনির নাম দিয়েছিলেন সোনাঝুরি। কিন্তু সত্য হলো, এই গাছ একটা 'সন্ত্রাসী' গাছ। মরু অঞ্চলের উপযুক্ত হলেও আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এই গাছে পাখি বসে না, এর ফল পাখি খায় না, এর কাঠেও টেকসই কিছু বানানো যায় না। আশপাশের সব উদ্ভিদের খাবার খেয়ে নিজে ধেই ধেই করে বড় হওয়া ছাড়া এদের কোন কাজ নেই। পানিতে যেমন আফ্রিকান মাগুর মাটিতে তেমন আকাশমনি আর ইউক্যালিপ্টাস।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এলাকার বুকের মধ্যে যে পার্কের অবস্থান, যার গা ঘেঁসে একসময়ের প্রধানমন্ত্রী বাস করতেন, যে পার্কের মাঝখানে চিরনিদ্রায় শায়িত দেশের একজন রাষ্ট্রপ্রধান ও একজন সরকার প্রধান, সেই পার্কের পরিবেশের কেন উন্নতি হয় না, তা আমি ভেবে পাই না।
আশা করি, সামনের সরকার, বোধিবৃক্ষ, জাদুঘর আর জিয়া দম্পতির কবরস্থানের পবিত্রতার প্রতি সম্মান দিয়ে এই পার্কটিকে একটা সেন্টার অব এক্সেলেন্স হিসাবে গড়ে তুলবে। নতুন ফলদ বৃক্ষদের রোপন করবে, সব গাছের গায়ে পরিচয় লিখবে যেন শিশুরা অশ্বত্থের সাথে বটের বা নাগকেশরের সাথে লিচুর বা অন্তত আমের সাথে কাঁঠালের পার্থক্যটা ধরতে পারে। মেয়েরা যেন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, স্বচ্ছন্দে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারে।
এই রাজধানীতে, একটু নৈঃশব্দ্য, একটু নির্জনতা, আর একটু বিশুদ্ধ বাতাস - এইটুকু কি এই রাষ্ট্র দিতে পারে না?
ফেসবুকে থেকে সংগৃহীত
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?
জাহিদ হোসেন