হলিউডের কিংবদন্তি নির্মাতা জেমস ক্যামেরন ‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’-এর মতো সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার স্রষ্টা সিনেমাপ্রেমীদের ভালোবাসায় দীর্ঘদিন ধরেই খ্যাতির শীর্ষে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজের জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন ক্যামেরন।
‘ইন ডেপথ উইথ গ্রাহাম বেসিঞ্জার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন বলেন, নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় দেশটির বিজ্ঞানভিত্তিক, সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই তাকে সেখানে থাকতে অনুপ্রাণিত করেছে। তার ভাষায়, কোভিড মহামারিই ছিল সেই টার্নিং পয়েন্ট, যা তাকে ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
ক্যামেরন জানান, কোভিডের সময়ে নিউজিল্যান্ড একবার নয়, দুবার পুরোপুরি ভাইরাস নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছিল। তৃতীয় দফায় মিউটেশনের মাধ্যমে ভাইরাস ঢুকলেও তখন দেশটির টিকাদানের হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। বিপরীতে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের হার ছিল মাত্র ৬২ শতাংশ এবং তা ক্রমেই কমছিল। তার মতে, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘ভুল পথে’ এগোচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক বিভাজন ও বিজ্ঞানবিরোধী মনোভাবের সমালোচনা করে ক্যামেরন বলেন, মানুষ কোথায় থাকতে চাইবে যেখানে বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করা হয়, মানসিক স্থিতিশীলতা আছে এবং সবাই একটি অভিন্ন লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে, নাকি এমন একটি দেশে, যেখানে চরম বিভাজন, বিজ্ঞান অস্বীকার এবং আরেকটি মহামারি এলে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে?
তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক হঠাৎ তৈরি হয়নি। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দেশটি সফর করার সময়ই তিনি সেখানে এক ধরনের গভীর সংযোগ অনুভব করেন। পরে ২০১১ সালে একটি খামারবাড়ি কেনার পর থেকে নিউজিল্যান্ডে তার যাতায়াত আরও বেড়ে যায়।
সবশেষে ২০২০ সালের আগস্টে, কোভিড মহামারির মধ্যেই পরিবারসহ নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন জেমস ক্যামেরন। বর্তমানে তার কাছে এই দ্বীপরাষ্ট্র কেবল কাজের জায়গা নয়, বরং নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার এক প্রতীক।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?