আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক ভুল এবং গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর ফেরার সুযোগ পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন।
শুক্রবার (৪ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন’ আয়োজিত এক প্রতীকী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশটির মূল দাবি ছিল সারাদেশে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে রিপন বলেন,আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাদের রাজনীতিতে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ এখন মুসলিম লীগের পথে হাঁটছে।
তিনি আরও বলেন, যারা বিনা ভোটের নির্বাচন করেছে, তারাই এখন পদোন্নতির জন্য ছুটোছুটি করছে। জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়ে যারা সরকারি কর্মকর্তা হয়ে আজ প্রমোশন চাইছে, তারা আসলে গণতন্ত্রের ঘাতক।
আসাদুজ্জামান রিপন ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের চেয়ে আন্তর্জাতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা সরকারের পতন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি জানান।
রিপন বলেন, বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন যারা পরিচালনায় সহায়তা করেছে, সেই সব আমলাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, জনগণের কাছে রাজনৈতিক জবাবদিহি নেই বলেই আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছে।
বিএনপির এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন দলটি দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিকে জোরদার করতে চায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে ‘মুসলিম লীগের মতো জনবিচ্ছিন্ন’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি জনমত ও ইতিহাসের নিরিখে একটি প্রতীকী তুলনা টানতে চাচ্ছে।
এছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপি বোঝাতে চাইছে দেশে কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, নির্বাচনী ব্যবস্থাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?