সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে সেনা, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অভিযান থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ৭০টি ট্রাকও আটক করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আরও ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছিল। জব্দকৃত পাথরগুলো সাদা পাথরে পুনঃপ্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে পর্যটনকেন্দ্রটি আগের রূপ ফিরে পায়।
দুদকও মাঠে নেমে পাথর লুটের ঘটনায় তদন্ত করছে। সিলেটে দুদক কর্মকর্তারা সরেজমিনে সাদা পাথর পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। দুদক জানায়, কয়েকশ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাথর লুটে জড়িত থাকার অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা এবং ছোট-বড় পাথরের জন্য পরিচিত। গত কয়েক বছরে পর্যটকরা এখানে ভিড় করতে শুরু করলে কিছু লোভী পাথর চুরি ও পাচারে জড়ায়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পাথরের ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ১৩০টি পাথরবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। ৭০ ট্রাক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। বুধবার রাতে আরও ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছিল।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা জানিয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ পাথর উত্তোলন, মজুদ বা পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় ৫ দফা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে রয়েছে—সাদা পাথর ও জাফলং এলাকায় যৌথবাহিনী ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন, অবৈধ স্টোন ক্রাশার মেশিন বন্ধ করা, চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া, এবং পাথর লুটে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?