আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।
এর আগে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা ওই নির্দেশনা গত রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেবল তিন শ্রেণির কর্মকর্তা মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন। তারা হলেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ‘ইলেকশন সিকিউরিটি ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন আনসার সদস্য (এম্বডিড আনসার/জেনারেল আনসার/ভিডিপি)।
এই নির্দেশনার ফলে ভোটগ্রহণের দিন প্রার্থী ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানায়।
আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের জন্য মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।
বৈঠক শেষে আরএফইডি জানায়, নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছে এবং তাদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বহনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শিগগিরই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশন তাদের আগের সিদ্ধান্তে সংশোধন আনল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?