clock ,

এপস্টিন-কাণ্ডে পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ সহযোগী

এপস্টিন-কাণ্ডে পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ সহযোগী

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি। লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা সামনে আসার পর চাপের মুখে এই পদ ছাড়লেন স্টারমারের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী।

সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত নতুন কিছু নথি প্রকাশ করলে যুক্তরাজ্যেও তা ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ওই নথিতে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসায় লেবার পার্টির ভেতরে বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দল এবং নিজ দলের একাংশের অভিযোগ ছিল, এমন বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল গুরুতর ভুল।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে মরগান ম্যাকসুইনি জানান, “ভালোভাবে চিন্তা করার পর আমি সরকারের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এই সিদ্ধান্ত আমাদের দল, আমাদের দেশ এবং রাজনীতির প্রতি জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।তিনি আরও বলেন, “এই নিয়োগের বিষয়ে আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। সেই পরামর্শের পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।

এর আগে বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর লর্ড ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকেও সরে দাঁড়ান। তবে তাতেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। লেবার পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতা সরাসরি মরগান ম্যাকসুইনির পদত্যাগ দাবি করেন এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সময় সরকারের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

৪৮ বছর বয়সী মরগান ম্যাকসুইনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সমালোচকদের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই ম্যান্ডেলসনের অতীত যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।

তবে মরগানের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন, “মরগান ম্যাকসুইনির সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য সম্মানের ছিল।তিনি জানান, ম্যাকসুইনি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং দল সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৩ ২০০৪ সালে জেফরি এপস্টিন লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিন দফায় মোট ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করেছিলেন। প্রতিবারই দেওয়া হয়েছিল ২৫ হাজার ডলার করে। লর্ড ম্যান্ডেলসন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ছাড়া তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টিন-কাণ্ড ঘিরে এই পদত্যাগ লেবার সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উচ্চপর্যায়ের নিয়োগে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য