খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। পাশাপাশি ঋণখেলাপিরা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে যে সুবিধা পাচ্ছেন, তা আইনিভাবে রহিত করার ব্যবস্থাও প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি খেলাপি ঋণ কমাতে পাঁচ ধাপের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিয়েছে এবিবি। সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয় এবং এর অনুলিপি দেওয়া হয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বৈঠকে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর এমডিদের লিখিত প্রস্তাব দিতে বলা হলে তারই পরিপ্রেক্ষিতে এসব মতামত দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। যদিও ডিসেম্বর শেষে এই হার কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে বলে জানা গেছে, তবে এ সময়ের চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রকাশ হয়নি। এক বছর আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশের অনুমোদন দিতে পারে। বিদ্যমান আইনে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে অনেকেই সে সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই।
এমডিদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে খেলাপি ঋণ কমাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আংশিক অবলোপনের সুযোগ দিতে হবে এবং লিয়েনকৃত শেয়ার নগদায়নে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশ যাত্রায় ব্যাংক বা আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা, নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশ এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বন্ধকি সম্পদ নিলামে বিক্রি সহজ করা, আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, আলাদা অর্থঋণ আদালত স্থাপন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বন্ধকি সম্পদের পৃথক ডেটাবেজ তৈরির সুপারিশ করেছে এবিবি। চিঠির শেষাংশে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট বিবেচনায় এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়েছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?