ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থার মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা এক খোলা চিঠিতে এই আহ্বান জানান। চিঠিটি বুধবার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় ও তার আগে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। অতীতের সরকারগুলোতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার আটক, নির্যাতন এবং সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রতি প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
অ্যাগনেস ক্যালামার্ড চিঠিতে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল জনআস্থা ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন দৃঢ় করা এবং অর্থবহ মানবাধিকার সংস্কার শুরু করা। যদিও সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, তবুও দেশের সব নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষায় এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার লঙ্ঘন ঘটছে। এছাড়া শরিফ ওসমান হাদিক হত্যার পর বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা, দুটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে হামলা, নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে হয়রানি এবং পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অ্যামনেস্টি মহাসচিব বলেন, এই ধরনের ঘটনা মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুতর ব্যর্থতার পরিচয় দেয় এবং এসবের তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কর্তব্য।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?