clock ,

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন হুমকি: মেঘ বিস্ফোরণ

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন হুমকি: মেঘ বিস্ফোরণ

ভারতের জম্মু কাশ্মীরের চাশোতি গ্রামে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণে সৃষ্ট হড়কায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে উত্তরাখণ্ডে একই ঘটনায় চারজন মারা যান এবং ১০০- বেশি নিখোঁজ হন। ২০২৪ সালে কেরালার ওয়েনাডে মেঘ বিস্ফোরণ ভূমিধসে ৩৯২ জন প্রাণ হারান। গত কয়েক বছরে ভারত, পাকিস্তান বাংলাদেশে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যাতে শত শত মানুষের প্রাণহানি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মেঘ বিস্ফোরণ কী?

মেঘ বিস্ফোরণ হলো এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেখানে খুব অল্প সময়ে (প্রায় এক ঘণ্টায়) ছোট একটি এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এটি সাধারণ বৃষ্টির তুলনায় বহু গুণ বেশি তীব্র এবং প্রায়শই পাহাড়ি অঞ্চলে ঘটে। তীব্র বর্ষণ হঠাৎ বন্যা, ভূমিধস এবং অবকাঠামো ধ্বংস ডেকে আনে।

কেন হয়?

পাহাড়ি ঢালে আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি করে। মেঘ ভারী হয়ে গেলে হঠাৎ ফেটে প্রবল বৃষ্টি ঝরে। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থা ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি

ভারত: ২০২০-২৫ সময়ে লেহ, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, কেরালা উত্তরাখণ্ডে একাধিক ঘটনায় শত শত মৃত্যু।

পাকিস্তান: ২০২১-২২ সালে সিন্ধ কাশ্মীরে অতিবর্ষণ বন্যায় বহু প্রাণহানি অবকাঠামো ধ্বংস।

বাংলাদেশ: রংপুর ফেনীতে মেঘ বিস্ফোরণে ব্যাপক বন্যা ক্ষতি।

প্রতিরোধের উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডপলার রাডার উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম সতর্কতা জারি করা জরুরি। পাহাড়ি অঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত নির্মাণ, বন সংরক্ষণ এবং সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে। এখনই সমন্বিত টেকসই পদক্ষেপ না নিলে এর পরিণতি হতে পারে আরও ভয়াবহ।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

সম্পর্কিত খবর

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য