কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবারও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানু। গত বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) গভীর রাতে তার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এর পরদিন তিনি পরিবারসহ ফেনীতে আশ্রয় নেন।
মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বলছে, গত বছর ডিসেম্বর মাসে গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে যে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলার আসামিরাই এবার হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা ছিলেন প্রায় ৩০-৩৫ জন, যাদের হাতে ছিল রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোটা।
মুক্তিযোদ্ধার ছেলে এবং বাতিসা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, “প্রশাসনের আশ্বাসে বাবা-মা ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সালাহ উদ্দিন আতিক ও আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। তারা ঘরের দরজা-জানালা, গেট—সব কিছু ভেঙে দেয়। পুলিশ এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “বাবা মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছেন। মামলা করে কোনো লাভ হচ্ছে না। আগের ঘটনায়ও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এবারও আমরা থানায় জানালেও লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়নি।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমরা লিখিত অভিযোগ চাইলে তারা এখনো কিছু জমা দেয়নি।"
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ৭৮ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় জামায়াতপন্থী কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন, তবে মামলার সব আসামি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
সরকারি তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্যের ওপর এমন হামলা ও বারবার নিরাপত্তাহীনতায় পড়া প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েও।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?