ঝাড়খণ্ডের চাইবাসা জেলা (পশ্চিম সিংভূম) অন্তর্গত সারান্ডার জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের গুলির লড়াইয়ে মোট ১৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় শুরু হওয়া ‘অপারেশন মেঘাবুরু’ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এবং সন্ধ্যার পর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১২ জানানো হয়। রাতের দিকে তা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১৫ জনে দাঁড়ায়।
সিআরপিএফের আইজি সাকেত কুমার শুক্রবার জানান, নিহতদের মধ্যে ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে রয়েছে অনিলদা, যিনি মাওবাদী সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)র সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য এবং ঝাড়খণ্ডে নাশকতা-হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত। অনিলদার আসল নাম পতিরাম মানঝি। ঝাড়খণ্ডে তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা, আর ওডিশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এনআইএ অনিলদার সন্ধান পেলে ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেছিল।
পুলিশ বলেছে, অনিলদা ১৯৮৭ সাল থেকে মাওবাদী সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি গিরিডি জেলার ঝারহাবালে গ্রামের বাসিন্দা এবং সারান্ডা, গিরিডি, পলামু, লাতেহারসহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলেন। মাওবাদীদের মধ্যে তিনি তুফান ও রমেশ নামেও পরিচিত ছিলেন।
আইজি সাকেত কুমার আরও জানিয়েছেন, এই অভিযানে অন্যান্য কয়েকজন মাওবাদী নেতা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আনমোল (সুশান্ত), যার বিরুদ্ধে ১৪৯টি মামলা ছিল এবং ঝাড়খণ্ড ও ওডিশায় তাঁর মাথার দাম ছিল যথাক্রমে ২৫ ও ৬৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া অমিত মুন্ডা (৬২ লক্ষ টাকা), পিন্টু লোহরা (৫ লক্ষ টাকা) ও লালজিত (লালু) (৫ লক্ষ টাকা) সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, অনিলদার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দেহও শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজেশ মুন্ডা, বুলবুল আলডা, ববিতা, পূর্ণিমা, সুরজমুনি ও জোঙ্গা, যাদের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে একাধিক মামলা ছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশ, কোবরা ব্যাটালিয়ন, জাগুয়ার ও সিআরপিএফ যৌথভাবে বেশ কিছু সফল অভিযান চালিয়েছে। তাদের মধ্যে পলিটব্যুরোর সদস্য প্রশান্ত বোসকে গ্রেপ্তার, সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য সুধাকর-এর আত্মসমর্পণ এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতাদের এনকাউন্টার উল্লেখযোগ্য।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?