সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে প্রদর্শনী হলজুড়ে আধুনিক বাণিজ্যিক জেট, স্কেল মডেল ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লে থাকলেও সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ নির্মাতা কম্যাক-এর বুথ। চীনের বাইরে প্রথমবারের মতো সিঙ্গাপুরে উপস্থিত কম্যাক দুই বছর আগে তাদের যাত্রীবাহী জেট সি৯১৯ উড়িয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।
বিশ্ববাজারে মার্কিন বোয়িং ও ইউরোপীয় এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার লক্ষ্য নিয়েই এই উড়োজাহাজটি ডিজাইন করা হয়েছে। কম্যাক এখন শুধু চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল এভিয়েশন মার্কেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিশ্বের বড় উড়োজাহাজ নির্মাতারা সরবরাহ শৃঙ্খল ও নতুন উড়োজাহাজ হস্তান্তরে সমস্যা পারছে।
আইএটিএ মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ জানিয়েছেন, “সময়মতো কম্যাক একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগী হবে। ১০–১৫ বছরের মধ্যে বোয়িং, এয়ারবাস ও কম্যাক—এই তিনটিই প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে দেখা যাবে।”
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বোয়িং ও এয়ারবাসের সরবরাহ বিলম্ব ও ইঞ্জিন ঘাটতির কারণে এয়ারলাইনগুলো নতুন বিকল্প খুঁজছে। কম্যাক ইতোমধ্যেই চীনের আকাশপথে ১৫০টির বেশি জেট পরিচালনা করছে, পাশাপাশি লাওস, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও ব্রুনাইসহ অন্যান্য দেশে অর্ডার পেয়েছে।
এএপিএ মহাপরিচালক সুভাষ মেনন বলেন, “আমাদের আরও সরবরাহকারী প্রয়োজন। কম্যাকের আগমন আমরা স্বাগত জানাই।”
তাদের শক্তিশালী সরকারি সমর্থন ও তুলনামূলক কম দামের কারণে উদীয়মান বাজারের বাজেট এয়ারলাইনগুলোর কাছে কম্যাক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তবে ইউরোপীয় সার্টিফিকেশন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা ২০২৮–২০৩১ সাল পর্যন্ত সময় নিতে পারে।
একদিকে কম্যাক, অন্যদিকে বোয়িং ও এয়ারবাস—সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে প্রতিযোগিতা স্পষ্ট। তবে কম্যাকের অর্ডার সংখ্যা ও সরবরাহ ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা না করতে পারে, তবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বোয়িং ও এয়ারবাসের আধিপত্য দীর্ঘকাল বজায় থাকবে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?