clock ,

জ্বালানি আমদানিতে দেড় লাখ কোটি টাকার ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও সিন্ডিকেটের প্রশ্ন

জ্বালানি আমদানিতে দেড় লাখ কোটি টাকার ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও সিন্ডিকেটের প্রশ্ন

বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত হলো জ্বালানি। গত অর্থবছর (২০২৪-২৫) সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা, যা পরিশোধিত অপরিশোধিত তেল, এলএনজি, এলপিজি এবং কয়লা আমদানি খাতে হয়েছে।

বিগত দুই দশকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে এই খাতকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় আন্তর্জাতিক কিছু ট্রেডিং কোম্পানি, রাজনৈতিক নেতা মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন বা ঘুসের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানো হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট লাখ ৪৩ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার জ্বালানি পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে:

·         পরিশোধিত জ্বালানি তেল: ৫২,৯৬৪ কোটি টাকা

·         অপরিশোধিত জ্বালানি তেল: ১৩,৩৮০ কোটি টাকা

·         এলএনজি এলপিজি: ৫৯,৯০৬ কোটি টাকা

·         কয়লা: ১৭,০১৪ কোটি টাকা

বিপুল আমদানির ফলে রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট বিনিয়োগ না হওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত দুই লাখ কোটি টাকার বেশি এলএনজি আমদানি করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ ছিল সীমিত।

বিগত সরকারের সময়ে মূল আমদানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া, সুইজারল্যান্ডের গানভর, ফ্রান্সের টোটাল এনার্জিস, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি অভিযোগ রয়েছে, ভিটল এশিয়ার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় বন্ধুদের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিল।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সিন্ডিকেটের তৎপরতা আগের তুলনায় কমেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা এবং অতীতের অনিয়ম তদন্তের জন্য ফরেনসিক অডিট প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক . তামিম বণিক বলেছেন, “সিন্ডিকেট এখনো বিদ্যমান। আমদানিতে অতীতের অনিয়ম এবং ঘুস লেনদেনের বিষয়গুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দাবি করেছেন, “জ্বালানি খাতে সিন্ডিকেট ভেঙে ২৫টি সরবরাহকারী কোম্পানি কাজ করছে। ব্যয় বেড়েছে, তবে এলএনজি আমদানিও বেড়েছে।

দেশে জ্বালানি খাত এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। ২০২৬-৫০ পর্যন্ত দেশজুড়ে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে হলে আরও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য