বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, বা ‘চিকেন নেক’ এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এরই মধ্যে ভারত অঞ্চলটিতে বাড়িয়েছে সামরিক উপস্থিতি এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ডের চারদিকে রয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান ও চীন। সম্প্রতি ড. ইউনূস এক বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশই হলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র সমুদ্র প্রবেশদ্বারের অভিভাবক।” এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা দেখা দেয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে এই করিডরকে “সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক অঞ্চল” হিসেবে ঘোষণা করেছে। করিডরের নিকটেই শুকনায় রয়েছে ত্রিশক্তি কর্পসের সদর দপ্তর, যারা রাফালে যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘আকাশ’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত। বিমানবাহিনীও হাসিমারায় রাফালের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। এছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছে এস-৪০০ এবং এমআরএসএএম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে ড. ইউনূসের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যা হলে এটিই হবে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের সঙ্গে মোদির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়া এবং বিআরআই প্রকল্পে অংশগ্রহণ ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারত এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?