কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ক্রীড়া জগতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। ফর্মুলা ওয়ান, ফুটবল ও আমেরিকান ফুটবল লিগ (এনএফএল)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর দণ্ডিত হওয়ার পরও যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এমন তথ্য মিলেছে লাখ লাখ নথিতে, যা গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।
নথিগুলোতে থাকা ই–মেইল ও টেক্সট বার্তায় দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—এমন দাবি করা ব্যক্তিদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়েও যোগাযোগ রাখেন। এমনকি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে ফাইলে উল্লেখ রয়েছে। তবে নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফাইল অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্ট সংস্থার (এফআইএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট জাঁ টড ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এছাড়া আলপাইন ফর্মুলা দলের উপদেষ্টা ফ্লাভিও ব্রিয়াতোরের সঙ্গেও এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ফুটবলে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিনিয়োগকারী জশ হ্যারিস এবং চেলসি চেয়ারম্যান টড বোয়েলির নামও নথিতে এসেছে। তবে হ্যারিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি ব্যবসায়িক যোগাযোগ এড়াতে চেয়েছিলেন।
এনএফএলের নিউইয়র্ক জায়ান্টসের সহমালিক স্টিভ টিশের সঙ্গে এপস্টেইনের ই–মেইল বিনিময়ের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। টিশ এক বিবৃতিতে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে কি না, তা বিবেচনা করছে এনএফএল কর্তৃপক্ষ।
নথিতে আরও দেখা গেছে, এপস্টেইনের সহযোগী গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গেও বহু ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের যোগাযোগ ছিল। এই তালিকায় রয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক গেমসের চেয়ারম্যান কেসি ওয়াসারম্যানও।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত যে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁর বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান এপস্টেইন।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?