clock ,

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার অভিযোগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে আইআরজিসিকে এখন থেকে আল-কায়েদা ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সমপর্যায়ে গণ্য করা হবে। খবর বিবিসি রয়টার্সের।

দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স জার্মানির মতো কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণার বিষয়ে দ্বিধায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচার দমন-পীড়ন, গণহারে মৃত্যুদণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান কঠোর হয়।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন,যারা সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করে, তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই গণ্য করা উচিত।তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত ইরানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।

আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার পাশাপাশি ইইউ ২১ জন ইরানি কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউরোপে থাকা তাদের সব সম্পদ জব্দ করা হবে এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি ইইউর এই সিদ্ধান্তকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ খেলা এবং বড় কৌশলগত ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বর্তমানে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক রাজনৈতিক শক্তি।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের কৌশলগত অর্থনৈতিক খাতের বড় অংশ এই বাহিনীর অধীনে রয়েছে। হিজবুল্লাহ, হামাস হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগও রয়েছে আইআরজিসির বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা করবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) পুনরুজ্জীবনের কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য