অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ছয় মাস বাকি থাকলেও সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও সংস্কার কমিশনের সদস্যরা এ মত দেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থনীতিবিদ ও সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, “সরকার একাধিক সংস্কারের কথা বললেও কোনটি অগ্রাধিকার পাবে তা পরিষ্কার নয়। যদি আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হয়, তবে ছয় মাসের মধ্যে কোন কোন সংস্কার বাস্তবায়িত হবে সে প্রশ্ন রয়ে গেছে।”
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রথমে যে উচ্ছ্বাস ছিল, তা এখন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেছে। প্রান্তিক ও অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের চাহিদা সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়নি।”
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, “সংস্কারের কথা অনেকবার শোনা গেলেও বৈষম্য, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বেড়েছে। সরকারের নির্লিপ্ততা উদ্বেগজনক।”
সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী পরামর্শ দেন, “১৫টি খাতে একসঙ্গে না গিয়ে গুরুত্বের ভিত্তিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার করা উচিত।”
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘২০২৪-এর আগস্টে বিপুল জনসমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। এখন এক বছর পর ওই আকাঙ্ক্ষার চরিত্রটা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তার একটা নির্মোহ খতিয়ান নেয়া খুবই জরুরি।’
অনুষ্ঠানে শ্রোতার সারি থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অনেক আগে থেকে সংস্কারের আলোচনাটি এসেছে, কিন্তু অনেক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়নি। এবার কী হবে, সেটার জবাব জরুরি। তবে আমরা আশাবাদী, তাই রিফর্ম ওয়াচে সবাইকে যুক্ত করছি।’
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘সংস্কারের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের যে মেয়াদ আছে এর মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারবে কিনা।’
অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত। এছাড়া মতামত দেন নারী সংস্কার কমিশনের সদস্য মাহিন চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এম মঈন আলম ফিরোজী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনসিপি নেতা মুশফিক আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আমিনুর রসুলসহ অনেকে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?