গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি সেনারা শুধু শারীরিক নয়, চরম মানসিক যন্ত্রণাও সহ্য করছেন। ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ–এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যুদ্ধফেরত পাঁচ সেনার অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, যা দেশটির সরকারি বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত।
২০ বছর বয়সী গোয়েন্দা ইউনিটের প্যারাট্রুপার সদস্য ‘ওর’ বলেন, খান ইউনিসে বোমা হামলার পর ধ্বংসস্তূপে অন্তত ছয়জনের পোড়া মরদেহ দেখেন, যাদের মধ্যে দুইটি ছিল শিশু। “সেই কঙ্কাল এখনো চোখে ভাসে। পোড়া দেহের গন্ধ এখনো আমার শরীর ও পোশাকে লেগে আছে,” বলেন তিনি। মাত্র কয়েকদিন পর আবারও তাঁকে কোনো সময়সীমা ছাড়া গাজার সীমান্তে ফেরত পাঠানো হয়।
একই অভিজ্ঞতা ২১ বছর বয়সী ‘ইয়োনাতান’-এরও। ধুলা-কাদা আর মৃত্যু-ভয়ের মধ্যে তার দিন কাটত। এক অভিযানে বিস্ফোরণে আহত হন তিনি, তার মুখে লেগে থাকা রক্ত যে নিজের নয়, বন্ধু এভিয়াদ-এর—তা বুঝতে সময় লেগেছিল। “সে আমাকে ডাকছিল, কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি,” বলেন তিনি। এরপর থেকেই রাতে ঘুমাতে পারেন না, খাবারেও রক্তের স্বাদ পান বলে জানান।
‘ওমর’ নামের আরেক সেনা বলেন, “প্রথমে ভাবতাম দেশকে রক্ষা করছি। এখন সবকিছুই অর্থহীন মনে হয়।” তিনি জানান, রাতে সেনারা নিজেদের জানাজা, উইল, এমনকি কে কাঁদবে—এসব নিয়েই আলোচনা করেন।
নাহাল রিকন ইউনিটের ‘ইয়াইর’ বলেন, “১০ দিন পর্যন্ত জুতা খোলারও সুযোগ হয়নি। চুল পড়ছে, তবুও কান্নার সাহস পাই না।” নিজের ইউনিটের অনেক সহযোদ্ধার মৃত্যু দেখেছেন তিনি। “জানি না, আর কখনো স্বাভাবিক হতে পারব কি না।”
ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট ‘ইয়াহালোম’-এর সদস্য ‘উরি’ বলেন, “শুরুতে মনে হতো আমরা ইতিহাস গড়ছি। এখন মনে হয়, সবকিছুই বিভ্রান্তি।” ভয় আর হতাশায় ডুবে থাকা এই সেনার প্রশ্ন, “আর কত মৃত্যু হলে আপনি থামবেন? ৯০০? এক হাজার? দয়া করে থামুন।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এই যুদ্ধ নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইসঙ্গে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার বিচার চলছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?