নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রিজারটন’ ফিরেছে চতুর্থ মৌসুমে শুধু রাজকীয় রোমান্স নয়, এবার সামনে এসেছে এক সংবেদনশীল সামাজিক বাস্তবতা: নারীদের যৌন অভিজ্ঞতা ও সে বিষয়ে দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা। রিজেন্সি যুগের সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নারীর অবস্থান, নীরবতা ও নিষেধাজ্ঞা নতুনভাবে তুলে ধরেছে এই মৌসুম।
তৃতীয় মৌসুমের শেষে ফ্রান্সেসকা ব্রিজারটন ও জন স্টার্লিংয়ের বিয়ের পর, নতুন পর্বে দেখা যায় তারা লন্ডনে ফিরে দাম্পত্য জীবনের শুরু করছে। ঝলমলে আয়োজনের আড়ালে ধরা পড়ে ফ্রান্সেসকার গভীর সংকট—যৌনতা সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞতা। সে সময় অবিবাহিত অভিজাত নারীদের এ বিষয়ে কিছুই জানানো হতো না; বিপরীতে, পুরুষদের অভিজ্ঞতা অর্জনকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক ধরা হতো। এই বৈষম্য নতুন দম্পতির সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করে।
নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফ্রান্সেসকা মা লেডি ব্রিজারটন ও ভাবি পেনেলোপের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ শুরু করে। এখানেই সিরিজটি দেখায়—পুরুষদের জন্য যা স্বাভাবিক, নারীদের জন্য তা কীভাবে নিষিদ্ধ ও গোপন হয়ে ওঠে। ফ্রান্সেসকার চরিত্রে অভিনয় করা হান্না ডডের ভাষায়, নারীরা যদি একে অন্যের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পায়, তবে নিজের শরীর ও অনুভূতি জানবে কীভাবে?
অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে ফ্রান্সেসকা ও জনের সম্পর্কেও নীরবতা কাজ করে। তবে সিরিজটি নীরবতা ভাঙার চেষ্টা, সততা ও খোলামেলা আলোচনার গুরুত্বকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। পাশাপাশি ফ্রান্সেসকার সামাজিক ভিড়ে স্বাচ্ছন্দ্য না পাওয়া—নিজেকে আলাদা অনুভব করার অভিজ্ঞতাও সম্মানের সঙ্গে দেখানো হয়েছে।
এ মৌসুমে মূল গল্প এগিয়েছে বেনেডিক্ট ব্রিজারটনের প্রেমকে কেন্দ্র করে। এক মুখোশ বলের রাতে রহস্যময় সোফির সঙ্গে তার পরিচয় দর্শকদের নিয়ে যায় অভিজাত সমাজের নিচের তলার জীবনে—গৃহপরিচারকদের সংগ্রাম ও বাস্তবতায়। রানি শার্লট ও লেডি ড্যানবেরির সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা যায়, যেখানে ক্ষমতা, বন্ধুত্ব ও আত্মসম্মানের সীমারেখা স্পষ্ট হয়।
সব মিলিয়ে, ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুম প্রশ্ন তোলে—নারীর অভিজ্ঞতা কেন নিষিদ্ধ? কেন নিজের শরীর ও অনুভূতি জানাটাও সামাজিক বাধায় আটকে যায়? রোমান্টিক নাটকের কাঠামোর ভেতর থেকেই এই প্রশ্নগুলো সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছে সিরিজটি।
চতুর্থ মৌসুমের প্রথম কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। বাকি চার পর্ব মুক্তি পাবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?