চাহিদা অনুযায়ী লাখ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও ইতালির পথে পাড়ি জমানো হয়নি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার লোকমান হোসেনের। বরং প্রতারণার শিকার হয়ে লিবিয়ায় বন্দি জীবন ও অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ ৯ মাস। শেষমেশ আরও অর্থ আদায়ের পর তাকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নির্যাতিত লোকমান ও তার পরিবার। তিনি জানান, বিদেশ যাওয়ার আশায় শুরুতে হবিগঞ্জের শিরু ইসলাম নামের এক দালালের হাতে দেন ১০ লাখ টাকা। কিন্তু ইতালি তো দূরের কথা, লিবিয়ায় পৌঁছেই তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় আরও এক দালালের কাছে।
লোকমান জানান, পরে পরিবারের সদস্যরা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের দালাল দাদন জমাদ্দারকে আরও ১২ লাখ টাকা দেয়। এর পরও তাকে ত্রিপলির জহুরাঘাট ওসামা ক্যাম্পের একটি ছোট ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। প্রতিদিনই চলে শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য চাপ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লোকমান বলেন, “আমার শরীরের সব জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খাবার, চিকিৎসা কিছুই ঠিকমতো দিত না। দিনরাত শুধু মারধর করত।”
লোকমানের স্ত্রী রিমি আক্তার জানান, স্বামীকে মুক্ত করার জন্য তারা দিনকে দিন দালালদের বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করে থেকেছেন। “আমার স্বামী আজ ১১ মাস পরে ফিরেছেন। সব হারিয়েছি, তবে এখন অন্তত পাশে ফিরে পেয়েছি তাকে। এটুকুই শান্তি,”—বলেন তিনি।
সাপলেজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজল খান বলেন, “লোকমানের পরিবার শুরু থেকেই আমাদের পাশে ছিল। আমরা যা পেরেছি করেছি। ওর শরীরে এখনো নির্যাতনের দাগ আছে, চিকিৎসার দরকার।”
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম জানান, “লোকমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?